
ইফতার নিয়ে আমার অসংখ্য স্মৃতি আছে। তার বেশির ভাগ আম্মুর সাথে। রোজা শুরু হলেই আম্মু দুপুর থেকে কল দিতো
শান্ত ইফতার নিয়ে আসিস।
–কি আনবো?
তোর যা ইচ্ছা আনিস।
– তুমি বলো
বেলিরোড থেকে একটু হালিম আনিস। ব্যাম্বো ক্যাসেল থেকে পরোটা আর আস্ত মুরগি, একটু বিফও আনিস আর কয়েক রকমের কাবাব। সাথে কয়েকটা কাবাবচপ আর ডিমচপ ।
আব্বু পাশ থেকে, শান্ত দই বড়া নিস এক বাক্স।
আমি: তোমরা তো কিছু বাদ দিলানা! খাবা কেমনে ?
আম্মু: আরে তুই নিয়ে আয়, খাবার দায়িত্ব আমাদের।
২০২০ মার্চ। আম্মু চলে গেলো। আর কেউ ইফতার এর আবদার করে না। আমার ইফতার নিয়ে উত্তেজনা চলে গেছে। আজকে এই ইফতারটা পেয়ে আম্মুর কথা অনেক মনে পড়ছিলো। আম্মু দেখলে খুব খুশি হতো। আগ্রহ নিয়ে সব আইটেম অল্প অল্প করে হলেও ট্রাই করতো আর বলতো, শান্ত, অনেক মজা ! উম মজারে অনেক। ভাল্লাগসে।
আমি খেতে পছন্দ করি , খাওয়াতেও পছন্দ করি। এই শহরে এসে খাওয়ার অভ্যাস চেঞ্জ হয়ে গেছে অনেক। আমাকে খুব কম মানুষ এতো যত্ন করে, সুন্দর করে খাবার পাঠিয়েছে। প্রতিটা খাবার এতো মজা হয়েছে ! খাওয়ার সময় মনে হচ্ছিলো আম্মু আমার পাশে বসে আছেন।
ধন্যবাদ দিয়ে কারও আন্তরিকতাকে ছোট করতে হয় না তাই ধন্যবাদ দিলাম না! রান্নার রানীকে অনেক শুভকামনা।
স্কারবোরো, কানাডা

