
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত তাদের খারিজ করে দিয়েছিল শেখ হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধকে শুধু আওয়ামী লীগের অর্জন ভাবতো। ক্ষমতার দম্ভে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অনুসারী সুশীলরা স্বাধীনতার ঘোষক ও সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা বলতে নারাজ ছিল। এমন কি তার বীরউত্তম খেতাব পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিল।
আওয়ামী লীগ কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বেচে খেত। কাউকে অপছন্দ হলেই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, রাজাকার তকমা দেয়া ছিল গত ১৬ বছরের প্রতিদিনের ঘটনা।
কথা এটা না। ক’দিন যাবত আওয়ামী ঘারানার কিছু বুদ্ধিজীবি, সংস্কৃতিকর্মী ইনিয়ে বিনিয়ে বলছেন,’ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির ঐক্য জরুরি। এক্ষুনি ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’
এটা দেখে ফান্দে পড়ে কান্দে বগার কথা মনে পড়লো। ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগ ভিন্নমতের অনুসারী মুক্তিযোদ্ধাদের সবচেয়ে বেশী অপমানিত অপদস্থ করেছে। তখন কোনদিন একবারের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যের কথা বলেনি। উলটো অস্বীকার করেছে ভিন্নমতের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে।
তাহলে আজ কেন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির ঐক্যের কথা বলছেন?
স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির আস্ফালন দেখে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। কিন্ত এই অপশক্তিকে প্রতিরোধে মানুষ নিজেরা এবং মুক্তিযুদ্ধ্বের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মিলে সংগ্রাম করবে। তবুও ধুরন্ধর আওয়ামীলীগের ডাকে মানুষ কখনো যাবে না।
মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ঐক্য চাই – এসব ভুংভাং দিয়ে আর চিড়া ভিজবে না। মানুষ আওয়ামী ল্যাস্পেন্সারদের দুরভিসন্ধি বোঝে। বিপদ উদ্ধার হলে আপনারা কাউকে চেনেন না। যে আপনার পাশে দাঁড়ায়, বিপদ কেটে গেলে সবার আগে তাকে লাথি দেয় আওয়ামী লীগ । এসব ইতিহাসতো ১টা নয়, ভুড়ি ভুড়ি আছে।
ভুলে যাবেন না, মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের একার ছিল না। ছিল সাতকোটি মানুষের মরণপণ সংগ্রামের, অস্তিত্বের লড়াইয়ের। দূর্ভাগ্য, যে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত মানুষ জীবন দিয়ে যুদ্ধ করেছে, স্বাধীনতার পর সেই চেতনাকে আওয়ামীলীগ হাইজ্যাক করেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে ভিন্নমত ও পথের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বকে মুছে ফেলার চেস্টা করেছে। জয়বাংলাকে দলীয় শ্লোগান বানিয়েছে। এমন হাইজ্যাকারদের মুখে আবার মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির ঐক্যের কথা- সত্যি বেমানান।
১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বাঙালী যেভাবে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেছিল, তার অনুপ্রেরণায় ২০২৪ সালের গণভ্যুত্থানে মানুষ ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। সেটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা।
রাজনীতির ক্ষুদ্র ছাত্র হিসেবে বলা অনুচিত হবে না কিংবা বাড়িয়ে বলা হবে না। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিরা আগামীতে এক হয়ে লড়বে কিন্ত আওয়ামী লীগের সেভগার্ড বা ব্যানারে হবে না।
মন্ট্রিয়ল, কানাডা
