
তোমাকে যখন তখন অজস্র কথার তোপে ব্যস্ত করতে কে পারে আর আমার মত?
জানো তো চোখের চশমার পাওয়ার বেড়েছে এক দফা!
কেনো যে ছোটবেলায় মাছ ভালোবাসিনি!
শুধু মুরগীর ঝোল আর বেগুনভাজি খেতাম রোজ। বাবা বলতেন পেঁপে খেতে আর নাক চিপে ধরে করলা ভাজি!
তোমাকে ডাকলেই আর পাই না আগের মতন!
তোমার ইনবক্স জুড়ে সারাদিন কত যে নূরি, লীনু, চম্পা, বকুল!
কী এত কথা খুঁজে পাও যখন তখন?
তোমাকে ব্যক্তিগত সমস্যা লেখে ওরা!
তুমি মনোবিজ্ঞানীর মত ওদের প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর দাও!
এই তোমাকে আমার ভালোলাগে জানো!
এইযে তুমি, যার অন্তর বাহির জুড়ে অদ্ভুত সম্মোহণ!
ক’দিন ধরেই মন বলছিল তোমার সাথে আমার দেখা হবে!
গুগল ম্যাপে খুঁজে বেড়াই মান্ডুরা নামের সেই অদ্ভুত স্টেশনটা!
ওখান থেকেই রিভার ক্রুজে যাবো আমরা।
ভাসমান রেস্টুরেন্ট এ ফিশ এন্ড চিপস খেতে খেতে তুমি বলবে তোমার ভূগোল ম্যাডামের গল্প।
ক্লাস সেভেন এর স্মৃতি এমন করে বলবে, মনেহবে এইতো কালকের গল্প! সুতিশাড়ির সেই ম্যাডামের চোখের বাহারী চশমার গল্পের পিছনে ঘুরতে ঘুরতেই আমরা ক্রুজে যাবার জন্য লাইনে দাঁড়াবো! বলবে,ম্যাডামের কপালের লাল টিপটা সূর্যের মত লাগতো তোমার!
জাহাজের ছাদের এক কোন ঘেষে একটা বেঞ্চে বসবো আমরা!
তোমার জলপাই রং জ্যাকেটের হুডি মাথায় তোমাকে রবিনসন ক্রুসো’র মত দেখাবে!
এর পরেরবার এলে একটা হাউসবোটে করে ম্যূরে রিভার ধরে সমুদ্রের কিনারায় যাবো!
ক্যাপাচিনো খেতে খেতে আমরা জোরে জোরে রবীন্দ্র সংগীত গাইবো!
কবিতাও চলবে বেশ!
শোনাবে আমার লেখা বৃষ্টি কবিতা!
মুগ্ধ বিস্ময়ে তোমাকে জড়িয়ে ধরবো আমি!
একেই বলে বুঝি ভালোবাসা? নাকি প্রেমের আহ্লাদ?
যাকে ভালোবাসে মানুষ,
তার অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ
সবটুকু নিয়েই ভালোবাসতে হয়!
তার ভালোলাগা সুরভিত ফুলের মত ছড়ায় মনের আনাচে কানাচে!
তার ভালোলাগা ছুঁয়ে ছুঁয়েই জীবনের তাল মহড়া!
তবলায় তেরেকেটেতাক তেরেকেটে,
এবং হারমোনিয়ামে সারেগামাপাধানিসা সেধে!
আবার জীবন এমনি ঘোরের মত নিয়ত নিরবধি,
যেনো রিনিঝিনি পায়ের নুপুর!
পিঠের আঁকিবুকি খেলাতে লিখবো,
লাইফ ইজ বিউটিফুল!
অটোয়া, কানাডা
