বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার চাপে জিটিএর এর আর্থিক পরিকল্পনাদাতা

White gift bag labeled TS Leather Brand with 'Made in Mongolia' and rope handles, surrounded by small boxed products on a black surface.
ঋণ ও মর্টগেজভিত্তিক বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ হারানোর অভিযোগ তুলে মুখ খুলতে শুরু করেছেন কানাডার বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী

ঋণ ও মর্টগেজভিত্তিক বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ হারানোর অভিযোগ তুলে মুখ খুলতে শুরু করেছেন কানাডার বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী। টরন্টোভিত্তিক এক আর্থিক পরিকল্পনাদাতার মাধ্যমে এসব বিনিয়োগ করেছিলেন তারা। অভিযোগ, শুরুতে নিয়মিত সুদের অর্থ পেলেও পরবর্তীতে অর্থপ্রদান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এখন অনেকেই তাদের মূলধন ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও কোনো অর্থ হাতে পাননি বলে দাবি করছেন।

বিনিয়োগকারীদের একজন জানান, তিনি ওই আর্থিক পরিকল্পনাদাতার পরামর্শে দুটি পৃথক প্রকল্পে মোট প্রায় ২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল প্রমিসরি নোট এবং অন্যটি ছিল মর্টগেজভিত্তিক বিনিয়োগ। কিন্তু প্রত্যাশিত মুনাফা তো দূরের কথা, এখন পর্যন্ত নিজের মূলধনও ফেরত পাননি।

- Advertisement -

প্রথমদিকে বিনিয়োগ নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়নি। কারণ, তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ঋণগ্রহীতারা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যক্তিগতভাবে গ্যারান্টার হিসেবে সংশ্লিষ্ট আর্থিক পরিকল্পনাদাতা নিজেই পুরো অর্থ ফেরত দেবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি আরও বলেন, “আমাদের স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, ঋণগ্রহীতারা যদি অর্থ ফেরত না দেন, তাহলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দায় নেবেন। কিন্তু এত সময় পেরিয়ে গেলেও আমরা একটি ডলারও ফেরত পাইনি।”

এদিকে, একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে আরও প্রায় ৩০ জন বিনিয়োগকারী একত্রিত হয়েছেন। একসময় তারা একে অপরের পরিচিত না হলেও এখন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং নিজেদের বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্য ও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছেন। তাদের আশঙ্কা, একই ধরনের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তারা সবাই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিনিয়োগকারীদের আরেকজন জানান, তিনি ওই আর্থিক পরিকল্পনাদাতার মাধ্যমে দুটি পৃথক ঋণ প্রকল্পে ৪ লাখ ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছিলেন। সেই ঋণগুলোর ক্ষেত্রেও একই ব্যক্তি ব্যক্তিগত গ্যারান্টার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল, এটি অবসরের জন্য একটি চমৎকার বিনিয়োগ। নিয়মিত সুদের আয় হবে এবং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। শুরুতে সত্যিই নিয়মিত সুদের অর্থ পেয়েছিলাম। কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে হঠাৎ করেই সব ধরনের অর্থপ্রদান বন্ধ হয়ে যায়।”

এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কয়েক মাস আগে সংশ্লিষ্ট আর্থিক পরিকল্পনাদাতা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, গত মার্চ মাসের মধ্যেই তিনি সবার বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে মার্চ পেরিয়ে জুলাই মাস চলে এলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ভরোবিয়োভা বলেন, “আমাদের বারবার সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো অর্থ ফেরত পাইনি। মার্চে অর্থ ফেরত দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেটিও পূরণ হয়নি।”

এই ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই অবসরজীবনের সঞ্চয় কিংবা দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থ এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছিলেন। ফলে অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তাদের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যক্তিগত গ্যারান্টি বা উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বিনিয়োগ করার আগে প্রকল্পের বৈধতা, ঝুঁকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা এখনও তাদের অর্থ ফেরতের আশায় রয়েছেন। তবে প্রতিশ্রুত সময়সীমা একাধিকবার পেরিয়ে যাওয়ায় অনেকেই এখন আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন। তাদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দিয়ে এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো হোক।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট আর্থিক পরিকল্পনাদাতার পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের ইচ্ছার কথা জানানো হলেও কবে এবং কীভাবে সেই অর্থ পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো রূপরেখা সামনে আসেনি। ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের অপেক্ষা ও উদ্বেগ দুটিই দিন দিন আরও বাড়ছে।

রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ

- Advertisement -

Read More

Recent