থমকে গেছে টরন্টোর কনডো নির্মাণ: সংকটে বিক্রি, বন্ধ হচ্ছে প্রকল্প, বিপদে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারী

টরন্টো ও আশপাশের অঞ্চলের কনডো নির্মাণ শিল্প এক নজিরবিহীন স্থবিরতার মুখে পড়েছে

টরন্টো ও আশপাশের অঞ্চলের কনডো নির্মাণ শিল্প এক নজিরবিহীন স্থবিরতার মুখে পড়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নতুন কনডো বিক্রির সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৫০২-এ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬৯ শতাংশ এবং গত এক দশকের গড় বিক্রি থেকে ৯১ শতাংশ কম। বাজার বিশেষজ্ঞরা একে টরন্টোর রিয়েল এস্টেট ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি বলে উল্লেখ করছেন।

এই বিপর্যয়ের ফলে বহু নির্মাণাধীন ইউনিট বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। ডেভেলপারদের একটি বড় অংশ নতুন কোনো প্রকল্প শুরু করা থেকে বিরত রয়েছে। বর্তমানে শহরজুড়ে ২৪,০০০-রও বেশি সম্পূর্ণ নির্মিত কনডো ইউনিট অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব ইউনিটের অনেকগুলো হয়তো আগামী ৫ বছর পর্যন্ত খালি পড়ে থাকবে।

- Advertisement -

২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে টরন্টো ও আশপাশের এলাকায় নতুন কনডো নির্মাণ শুরু হয়েছে মাত্র ১,২৭৬টি ইউনিটে, যা গত বছরের তুলনায় ৫৭ শতাংশ এবং গত দশ বছরের গড় থেকে ৮৪ শতাংশ কম। ডেভেলপাররা বিক্রির সম্ভাবনা না থাকায় অনেক অনুমোদিত প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত করে রেখেছে। ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১টি বড় কনডো প্রকল্প বাতিল হয়ে গেছে, যেখানে ৪,৪০০-রও বেশি ইউনিটের নির্মাণ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

কনডো বিক্রির গড় দামেও নেমে এসেছে চোখে পড়ার মতো পতন। বর্তমানে নতুন ইউনিটের গড় মূল্য প্রতি বর্গফুটে $১,২১২, যা এক বছর আগের তুলনায় ৬ শতাংশ এবং দুই বছর আগের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম। রিসেল ইউনিটগুলোর দাম আরও কম—প্রতি বর্গফুটে প্রায় $৯০০। এই বিশাল মূল্যের ব্যবধান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টি করেছে, আর সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহও কমিয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্থবিরতার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু মূল কারণ। যেমন – প্রথমত সুদের হার বৃদ্ধি: প্রিপ্রসেল ইউনিটের জন্য ফাইন্যান্সিং পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়ত নির্মাণ ব্যয়ের উর্ধ্বগতি: বাজেট অতিক্রম করায় প্রকল্প পরিচালনায় ঝুঁকি বেড়েছে। তৃতিয়ত ব্যাংকের অনীহা: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রকল্পে ঋণ দিতে আগ্রহ হারিয়েছে। এবং চতুর্থত বাজারে আস্থার ঘাটতি: বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ায় বিক্রিও হয়েছে ধীরগতির।

এই পরিস্থিতির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না শহরের বিলাসবহুল প্রকল্পগুলোও। কিছু বিলিয়ন ডলারের টাওয়ার প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে বা আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছে। এমনকি কিছু ডেভেলপার ঋণ শোধ করতে না পারায় রিসিভারশিপের আওতায় চলে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে তবে সামনের বছরগুলোতে ‘সাপ্লাই ক্লিফ’ নামক এক ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ, এখন যেহেতু নতুন প্রকল্প শুরু হচ্ছে না, ভবিষ্যতে যখন হাউজিংয়ের চাহিদা বাড়বে, তখন পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় মূল্য আরও বেড়ে যাবে এবং অনেকেই আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

তিন পক্ষই চরম অনিশ্চয়তায় বর্তমানে কনডো বাজারে ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও নির্মাতারা তিন পক্ষই গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ১) যারা প্রিপ্রসেল ইউনিট কিনেছেন, তারা ক্লোজিং নিয়ে দুশ্চিন্তায়।, ২) নির্মাতারা ভবিষ্যত প্রকল্প নিয়ে আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন। ৩) সাধারণ ক্রেতারা হয়তো কম দামে ইউনিট পেতে পারেন, তবে ভবিষ্যতের সরবরাহ ঘাটতি তাদের বিপাকে ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার কমানো, নির্মাণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ঋণে গতি ফেরানো এবং বাজারে আস্থা পুনঃস্থাপন ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ নেই। আগামী ছয় মাসে বাজারের গতি কোন দিকে যাবে তা নির্ধারণ করবে গোটা শিল্পের ভবিষ্যত।

টরন্টোর কনডো বাজার এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এখনই প্রয়োজন দ্রুত এবং সুপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent