
কানাডার টরন্টোতে শুরু হলো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ৫০তম টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এক দশক পেরিয়ে এবার উৎসব অর্ধশতবর্ষে পৌঁছেছে, যা শুধু উত্তর আমেরিকার নয়, গোটা বিশ্বের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
এবারের উৎসবের সূচনা হয়েছে কলিন হ্যাঙ্কস পরিচালিত তথ্যচিত্র “জন ক্যান্ডি: আই লাইক মি” দিয়ে। ছবিতে কানাডীয় কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা জন ক্যান্ডির জীবনী, ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা উঠে এসেছে। জন ক্যান্ডির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজন শুরু করাকে আয়োজকেরা নিজেদের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সঙ্গে এক আবেগঘন সংযোগ বলে বর্ণনা করেছেন।
এবারের আসরে মোট ২৯২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা, তথ্যচিত্র এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও কোভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় সংখ্যা কিছুটা কম, তবে আয়োজকদের দাবি মান ও বৈচিত্র্যে এবার কোনো ঘাটতি নেই। দর্শক ও সমালোচকরা লাইনআপ দেখে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
প্রধান ভেন্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে রয় থমসন হল, প্রিন্সেস অফ ওয়েলস থিয়েটার, স্কশিয়াব্যাঙ্ক থিয়েটার এবং টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল লাইটবক্স যেখানে প্রতিদিন গুনগুনে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শকরা।
চলচ্চিত্র তালিকায় রয়েছে বহুল আলোচিত বেশ কিছু সিনেমা, যেমন – ১) রিয়ান জনসনের Wake Up Dead Man: A Knives Out Mystery ২) গিলার্মো দেল তোরোর Frankenstein ৩) ডেভিড মিকদের Christy ৪) অ্যাজিজ আনসারির Good Fortune যেখানে অভিনয় করছেন কিয়ানু রিভস এবং ৫) পল গ্রিনগ্রাসের The Lost Bus ২০১৮ সালের ক্যালিফোর্নিয়ার ভয়াবহ দাবানলকে কেন্দ্র করে নির্মিত
এছাড়াও আলোচনায় রয়েছে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির Kutcher, নিয়া দা’কোস্টার Hedda, স্কারলেট জোহানসনের Eleanor the Great এবং ইরানি নির্মাতা জাফার পেনহির It Was Just an Accident।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শুধু একটি প্রদর্শনী নয়; বরং এটি অস্কার মৌসুমের পূর্বাভাসক। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে আলোচনায় আসা অনেক ছবি পরবর্তীতে অস্কারসহ আন্তর্জাতিক বড় পুরস্কার জিতে নেয়। ফলে এবারের আয়োজনেও সিনেমাজগতে নতুন বিতর্ক, আলোচনা এবং সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
ফেস্টিভ্যাল আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কেবল সিনেমা প্রদর্শনের উৎসব নয়; এটি বৈচিত্র্যময় কণ্ঠ, মানবিক গল্প ও সংস্কৃতির সমন্বিত মঞ্চ। তাদের ভাষায় “এই আয়োজন আগামী দিনের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য হবে অনুপ্রেরণার উৎস।”
অর্ধশতাব্দী পূর্তির এই আসর তাই শুধুই এক উৎসব নয়; বরং এটি এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা, যেখানে শিল্প, সমাজ ও ইতিহাস একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। দর্শকদের কাছে যেমন এটি আনন্দ ও বিনোদনের উৎস, তেমনি চলচ্চিত্রশিল্পীদের কাছে এটি তাদের স্বপ্ন ও স্বীকৃতির অন্যতম বড় মঞ্চ।
