দেড় মাসের ধর্মঘট শেষে কাজে ফিরলেন অন্টারিওর বিমাকর্মীরা

প্রায় দেড় মাসের দীর্ঘ অচলাবস্থা শেষে অন্টারিওর পাবলিক বিমা খাতের কর্মীরা অবশেষে কাজে ফিরেছেন

প্রায় দেড় মাসের দীর্ঘ অচলাবস্থা শেষে অন্টারিওর পাবলিক বিমা খাতের কর্মীরা অবশেষে কাজে ফিরেছেন। এই অচলাবস্থা শেষ হয়েছে ওয়ার্কপ্লেস সেফটি অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বোর্ড (ডব্লিউএসআইবি)-এর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মীর নতুন চুক্তির পক্ষে ভোট প্রদানের পর। এই ধর্মঘট অন্টারিওর ইতিহাসে প্রথম পূর্ণাঙ্গ শ্রমবিরতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ডব্লিউএসআইবি কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন, অন্টারিও কম্পেন্সেশন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (ওসিইইউ/সিইউপিই ১৭৫০), রবিবার ভোটাভুটির আয়োজন করে। অধিকাংশ সদস্য সম্ভাব্য নতুন চুক্তির পক্ষে ভোট দেন। এর মধ্য দিয়ে ২১ মে শুরু হওয়া ধর্মঘট আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।

- Advertisement -

এই দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে প্রদেশজুড়ে আহত শ্রমিকদের বিমা দাবি ও ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল।

ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হ্যারি গজলিন এক বিবৃতিতে বলেন, “আমি আমার সহকর্মীদের দৃঢ়তা ও ঐক্যের জন্য গর্বিত। অন্টারিওর শ্রমিকরা আমাদের কণ্ঠস্বর শুনেছে। আমরা এই প্রদেশের শ্রমিকদের জন্য এক অপরিহার্য নিরাপত্তা জাল হিসেবে কাজ করি। হাজারো নাগরিক ও কর্মী আমাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাদের সমর্থনেই আমরা নিয়োগদাতার পক্ষ থেকে ইউনিয়নের সিনিয়রিটি অধিকারের ওপর আঘাত প্রতিহত করতে পেরেছি এবং সর্বোত্তম ফলাফল নিশ্চিত করেছি।”

ডব্লিউএসআইবি কর্মীরা মূলত বিভিন্ন পেশার আহত শ্রমিকদের বিমা দাবি প্রক্রিয়ায় কাজ করেন। এর মধ্যে পুলিশ, ফায়ারফাইটার, নির্মাণশ্রমিক এবং বিপজ্জনক কাজের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য পেশাজীবী রয়েছেন। ধর্মঘট চলাকালে এই সেবাগুলোর বিলম্ব ও মামলা নিষ্পত্তিতে ব্যাঘাত ঘটায়, যা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

ধর্মঘটের মূল ইস্যু ছিল বেতন, কাজের চাপ এবং বিদেশে কাজ আউটসোর্সিংয়ের বিরোধিতা। ইউনিয়নের দাবি, প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া, কর্মীদের কাজের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্তি তৈরি করছে।

ইউনিয়ন আরও অভিযোগ করেছে যে, ডব্লিউএসআইবি কিছু প্রশাসনিক ও বিশ্লেষণমূলক কাজ যুক্তরাষ্ট্রে আউটসোর্স করছে, যা অন্টারিওর স্থানীয় কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি। গজলিন বলেন, “আমরা অন্টারিওর শ্রমিকদের জন্য কাজ করি। সেই কাজ যদি প্রদেশের বাইরে চলে যায়, তাহলে শ্রমবাজারের সুরক্ষা ও দক্ষতা দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

ধর্মঘট চলাকালে প্রদেশজুড়ে নাগরিকদের সহানুভূতি ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকে ছিল। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, নাগরিক অধিকার গ্রুপ এবং রাজনৈতিক নেতারাও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। অনেকেই একে “অন্টারিওর কর্মজীবী শ্রেণির মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম” হিসেবে দেখেছেন।

ডব্লিউএসআইবি ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে উভয়পক্ষ এখন “গঠনমূলক সমাধানের” পথে এগোচ্ছে। সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে এতে বেতন সমন্বয়, চাকরির নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ কাজ আউটসোর্সিং সংক্রান্ত বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অন্টারিওর শ্রমমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা এই সমঝোতাকে স্বাগত জানাই। এটি প্রমাণ করে যে আলোচনার মাধ্যমে জটিল সমস্যারও সমাধান সম্ভব।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আন্দোলন কেবল বিমা খাতের জন্য নয়, বরং পুরো প্রাদেশিক শ্রমনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। এটি দেখিয়েছে যে, প্রাদেশিক কর্মীরা এখন তাদের অধিকার, বেতন এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত ও সচেতন।

সব মিলিয়ে, ডব্লিউএসআইবি কর্মীদের এই ধর্মঘট অন্টারিওর শ্রম ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে থাকবে যেখানে কর্মীরা ঐক্যের শক্তিতে সরকার ও নিয়োগদাতাকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে এনেছেন। তবে বেতন এবং কাজের ভারসাম্য সংক্রান্ত চূড়ান্ত সমাধান কতটা টেকসই হবে, তা আসন্ন মাসগুলোর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

- Advertisement -

Read More

Recent