
অন্টারিও প্রদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রাদেশিক সরকারের চার বছরের নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে চিকিৎসকদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে এবং একই সঙ্গে পারিবারিক চিকিৎসকদের (ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান) প্রশাসনিক কাজের জন্যও পারিশ্রমিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, এ পদক্ষেপের ফলে প্রদেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি আরও উন্নত হবে এবং পারিবারিক চিকিৎসকের ঘাটতি কিছুটা কমবে।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম বছরে অন্টারিওর চিকিৎসকদের বেতন প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি আরবিট্রেটর দ্বারা নির্ধারিত হয়, যা চার বছরের “ফিজিশিয়ান সার্ভিসেস এগ্রিমেন্ট”-এর অংশ। পরবর্তী তিন বছরের জন্য আলোচনার মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণের কথা থাকলেও, আরবিট্রেটর সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আগামী তিন বছরের জন্য অতিরিক্ত ৭.৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি ঘোষণা করেছেন।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আরবিট্রেশনের ফলাফল চিকিৎসকদের নতুন রোগী দেখার উৎসাহ বাড়াবে এবং নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত রোগী দেখলে তারও আর্থিক প্রণোদনা থাকবে। ফলে প্রদেশে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দক্ষতা বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।
অন্টারিও মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (OMA) জানিয়েছে, তারা সরকারের সঙ্গে ফ্যামিলি হেলথ অর্গানাইজেশন (FHO) মডেলের হালনাগাদ সংস্করণে একমত হয়েছে। এই নতুন মডেলে প্রশাসনিক কাজের সময়ের জন্য চিকিৎসকদের বেতন দেওয়ার পাশাপাশি, জটিল রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে উন্নত পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা থাকবে।
OMA-এর মতে, এসব পরিবর্তন শুধু চিকিৎসকদের পেশাগত সন্তুষ্টি বাড়াবে না, বরং নতুন চিকিৎসকদের ফ্যামিলি মেডিসিনে আসতে উৎসাহিত করবে এবং যারা ইতিমধ্যে পেশায় রয়েছেন তাদের ধরে রাখতেও সহায়ক হবে।
অন্টারিও মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডা. জয়নাব আব্দুর রহিম বলেন, “এই পরিবর্তনগুলো ফ্যামিলি মেডিসিনকে একটি কার্যকর ও আর্থিকভাবে টেকসই বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকরা বেতনে পিছিয়ে ছিলেন, ফলে অনেকেই পারিবারিক চিকিৎসক হিসেবে ক্যারিয়ার বেছে নিতে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। কেউ কেউ সরাসরি বলেছেন এই পেশায় আর্থিকভাবে টিকে থাকা কঠিন। পর্যাপ্ত বেতন না পেলে অফিস চালানো, কর্মীদের বেতন দেওয়া সবই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।”
অন্টারিও মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বর্তমানে প্রদেশের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কোনো পারিবারিক চিকিৎসক নেই। এই পরিসংখ্যান প্রদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর একটি বড় চাপের ইঙ্গিত দেয়।
তবে সরকার বলছে, জাতীয় গড়ের তুলনায় অন্টারিও এখনও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, নতুন চুক্তির ফলে চিকিৎসকদের প্রণোদনা বাড়বে এবং আরও বেশি মানুষ পারিবারিক চিকিৎসকের অধীনে নিয়মিত সেবা পাবেন।
স্বাস্থ্যনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তি অন্টারিওর দীর্ঘদিনের এক সংকট ফ্যামিলি ডাক্তার ঘাটতি সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু বেতন বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন প্রশাসনিক সহায়তা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন চিকিৎসকদের জন্য সহজ লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক কাজের জন্য অর্থপ্রদান ব্যবস্থা চিকিৎসকদের কাজের ভারসাম্য আনতে পারে। অনেক চিকিৎসক অভিযোগ করে আসছিলেন যে, কাগজপত্র, ফলোআপ, ও রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য প্রচুর সময় দিতে হয়, যা আগে কোনোভাবেই আর্থিকভাবে স্বীকৃত ছিল না। এখন এই সময়ের জন্যও পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
অন্টারিও সরকারের সঙ্গে চিকিৎসকদের এই নতুন চুক্তি প্রদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যদিও চুক্তির বাস্তবায়ন এবং এর প্রভাব দেখতে সময় লাগবে, তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি প্রদেশের স্বাস্থ্যসেবার জন্য এক “আশাব্যঞ্জক সূচনা”।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
