
অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন লঙ্ঘনের দায়ে কানাডার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে গত অর্থবছরে প্রায় ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলার জরিমানা দিয়েছে দেশটির ফেডারেল সরকার। এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কানাডা (ESDC)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মোট ৪৯ লাখ ডলার জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ লাখ ডলার অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জরিমানার অঙ্ক বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর থেকে কার্যকর হওয়া সংশোধিত নিয়ম-কানুনের ফলে অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের পারমিট পাওয়া এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিয়োগের আবেদন সংখ্যায়। সরকার জানিয়েছে, অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগ কর্মসূচির আওতায় আবেদন সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।
বিশেষ করে স্বল্প মজুরির কর্মক্ষেত্রে এই পতন সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লো-ওয়েজ ক্যাটাগরির আবেদন হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ।
কানাডার এই কর্মসূচি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত স্বল্প মজুরি (Low-wage) ও উচ্চ মজুরি (High-wage) অস্থায়ী কর্মী। তবে সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, কানাডায় অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের আগমন গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
সরকারি উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার কম অস্থায়ী বিদেশি কর্মী কানাডায় প্রবেশ করেছেন।
এই অনিয়মের দায়ে সবচেয়ে বড় জরিমানা গুনতে হয়েছে নিউ ব্রান্সউইকের Bolero Shellfish Processing Inc. প্রতিষ্ঠানটিকে। কোম্পানিটিকে এককভাবে ১০ লাখ কানাডিয়ান ডলার জরিমানা করা হয়েছে যা এই কর্মসূচির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
শুধু জরিমানাই নয়, প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ১০ বছরের জন্য অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগ কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধও করা হয়েছে।
ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, Bolero Shellfish Processing Inc.-এর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে – ফেডারেল ও প্রাদেশিক শ্রম আইন লঙ্ঘন, নির্ধারিত মজুরির চেয়ে কম পারিশ্রমিক প্রদান, কর্মক্ষেত্রে শারীরিক, যৌন, আর্থিক ও মানসিক নির্যাতন থেকে কর্মীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতা।
এসব কারণেই কোম্পানিটিকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কানাডা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগ কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব কর্মীদের কম মজুরিতে, অনিরাপদ পরিবেশে ও অতিরিক্ত শ্রমে নিযুক্ত করছে যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।
ফলে সরকার এখন এই কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশি কর্মীদের সুরক্ষা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগকারীদের ওপর নজরদারি ও জরিমানার হার বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য বলছে, কানাডায় অস্থায়ী বিদেশি কর্মী নিয়োগ কর্মসূচি এখন এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে কঠোর আইন ও তদারকির ফলে অনিয়ম রোধের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে শ্রমঘাটতি বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবিক ও আইনি মানদণ্ড অক্ষুণ্ণ রেখে বিদেশি কর্মী নিয়োগে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
