
অন্টারিওতে বামপন্থী ‘র্যাডিকেল’ গ্রুপগুলোর তহবিল ব্যবহারে সরকারি নিরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছেন প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। তার দাবি, প্রদেশে সরকারি তহবিল পাওয়া কিছু সংস্থা গোপনে বামপন্থী র্যাডিকেল সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে অর্থ জোগান দিচ্ছে এ কারণেই কঠোর তদন্ত প্রয়োজন।
মঙ্গলবার অন্টারিও আইনসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ডগ ফোর্ড বলেন, “আমরা এমন এক নিরীক্ষা শুরু করেছি, যা অতীতে লিবারেল বা এনডিপি কেউই করেনি। সরকারি অর্থ ঠিকঠাক ব্যয় হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে নিরীক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “সিইউপিইসহ বিভিন্ন সংগঠনে তহবিল প্রবাহিত হতে পারে এমন সব দাতব্য সংস্থাকে আমরা নিরীক্ষার আওতায় আনছি। কেউ যেন গোপনে অর্থ পাচার করে র্যাডিকেল গ্রুপগুলোর কার্যক্রমে সহায়তা দিতে না পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
ফোর্ডের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময় যখন ভাড়াটিয়াদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন অ্যাক্রন এবং আরও কয়েকটি গ্রুপ বিল ৬০-এর ওপর ভোটাভুটির সময় বিক্ষোভ করে। সমালোচকদের দাবি, এই বিল বাড়িওয়ালাদের ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করা আরও সহজ করে দেবে।
ভোটাভুটির সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন “মানুষের চেয়ে মুনাফা বড়।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার গ্যালারি খালি করার নির্দেশ দেন। এ সময় অন্টারিও এনডিপি নেতা মারিট স্টাইলিস বিক্ষোভকারীদের পক্ষে দাঁড়িয়ে বলেন, “এটা জনগণের হাউজ। আপনাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। আপনি যদি গণতন্ত্রকে দমিয়ে রাখেন, তার পরিণতি আপনাদের দেখতে হবে।”
তিনি এই মন্তব্য করেন প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ পার্টির এমপিপি টাইলার অ্যাসলপের বক্তব্যের জবাবে। অ্যাসলপ অভিযোগ করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা নাকি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করছেন।
আইনসভার বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডগ ফোর্ড তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন “সব গ্রুপেরই নিরীক্ষা হবে। সরকারি অর্থ সঠিক কাজে ব্যয় হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা সরকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। এটা কোনো বিশেষ গ্রুপকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না।”
তিনি আরও যোগ করেন “আমি কাউকে নির্দেশ দিচ্ছি না কোন সংগঠনকে কীভাবে নিরীক্ষা করতে হবে। এটি সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। যারা তহবিল পায়, তারা দাবি করে যে তারা নির্দিষ্ট কাজ করছে আমাদের দায়িত্ব হলো তা যাচাই করা।”
এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো যখন অন্টারিওতে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ভাড়া-বাড়ি সংকট, বাড়তে থাকা উচ্ছেদ প্রক্রিয়া, বিল ৬০ নিয়ে জনঅসন্তোষ এবং শ্রম ও নাগরিক অধিকারের সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ সব মিলিয়ে বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলো সরকারকে আরও স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতার আহ্বান জানাচ্ছে।
ফোর্ড সরকারের সমালোচকরা বলছেন, এই নিরীক্ষার ঘোষণা আসলে প্রতিবাদী গ্রুপগুলোকে ভয় দেখানোর কৌশল হতে পারে।
অন্যদিকে সরকারপক্ষের দাবি সরকারি তহবিল অপচয় ঠেকাতে নিরীক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, অন্টারিওতে সরকারি তহবিল ব্যবহারের স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অধিকার দুটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে, আর বিল ৬০–এর ভোটাভুটি ছিল তার মাত্র একটি বহিঃপ্রকাশ।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
