ককাসের দুই সদস্যকে হারাল কুইবেক লিবারেল পার্টি

সর্বশেষ এক জনমত জরিপে কুইবেক লিবারেল পার্টির নেতা ও সাবেক পূর্ণমন্ত্রী পাবলো রড্রিগেজের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে কমে গেছে

কানাডার কুইবেক লিবারেল পার্টি টানা অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ককাসের দুই সদস্যকে হারিয়ে দলটি আরও চাপের মধ্যে পড়েছে। তদন্ত, নৈতিকতার অভিযোগ এবং নেতৃত্ব-সংশ্লিষ্ট বিতর্কে জর্জরিত হয়ে পড়েছে লিবারেলরা। তিন সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দলীয় নেতৃত্ব।

সর্বশেষ এক জনমত জরিপে কুইবেক লিবারেল পার্টির নেতা ও সাবেক পূর্ণমন্ত্রী পাবলো রড্রিগেজের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় প্রতিযোগিতা এবং সাম্প্রতিক নৈতিকতা–তদন্ত তার ভাবমূর্তিতে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

- Advertisement -

সোমবার কুইবেক সিটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লিবারেল এমপিপি মনসেফ দেরাজি বলেন, “যা কিছু আমাদের সামনে আসছে, সেগুলো আমাদের কাজ সঠিকভাবে করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রতিদিন এই ধরনের গল্প শুনে আমি সত্যি ক্লান্ত।” তার এই মন্তব্য স্পষ্ট করে যে ককাসের ভেতরে চাপ এবং ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

গত বৃহস্পতিবার মন্ট্রিয়ল এরিয়ার লিবারেল এমপিপি সোনা লাখোয়ান অলিভিয়েরকে ককাস থেকে বহিষ্কার করা হয়। কুইবেক এথিকস কমিশনের তদন্তে তিনি বর্তমানে অধীনস্থ। অভিযোগ গত বছর লিবারেল নেতৃত্ব নির্বাচন প্রতিযোগিতায় তিনি তার সাংবিধানিক (কনস্টিটিউশনাল) অফিস ব্যবহার করে দলীয় কাজে কোনো ধরনের সুবিধা নিয়েছিলেন কিনা। এথিকস কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে। ওই নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করেন বর্তমান নেতা পাবলো রড্রিগেজ।

অলিভিয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন “আমি সর্বদা আইন মেনে চলেছি। তদন্তে আমি পূর্ণ সহযোগিতা করব।”

শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে দলীয় চিপ হুইপ মার্ক ট্যাঙ্গুয়া বলেন, “নৈতিকতা তদন্তের অধীনে থাকলে একজন এমপিপিকে ককাস থেকে সরিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখানে কোনো ব্যতিক্রম নেই।” দলের নিয়ম অনুযায়ী এমন পরিস্থিতিতে ককাস বহিষ্কার স্বাভাবিক এবং দল ‍তার প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে বলেই জানান তিনি।

আরেক লিবারেল এমপিপি ডেজায়ারি ম্যাকগ্রো বলেন, “লিবারেল ককাস শতভাগ রড্রিগেজের পেছনে রয়েছে।” ম্যাকগ্রোর বক্তব্যে বোঝা যায়, বিতর্ক, তদন্ত ও জনপ্রিয়তা হ্রাসের মধ্যেও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে চাইছে সদস্যরা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দমিয়ে রাখাই এখন দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কুইবেক লিবারেল পার্টির বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা এখনও দলের ভেতরে বিভাজন তৈরি করছে, নৈতিকতা–তদন্ত দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং জনপ্রিয়তার পতন দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এখনই যদি লিবারেল নেতৃত্ব কার্যকরভাবে সংকট মোকাবিলা করতে না পারে, তাহলে আগামী নির্বাচনে এর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নতুন ভোটার এবং মধ্যপন্থী সমর্থকদের আস্থা টিকিয়ে রাখতে নেতার ভাবমূর্তি দ্রুত পুনরুদ্ধার করা জরুরি।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent