
ইনুইট জনগোষ্ঠী ও ভ্যাটিকানের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে কানাডার মাটিতে ফিরে এসেছে এক ঐতিহাসিক ইনুইট কেয়াক। ধারণা করা হচ্ছে, কেয়াকটির বয়স প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছরের মধ্যে। মঙ্গলবার এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে কানাডিয়ান মিউজিয়াম অব হিস্ট্রিতে। একই সঙ্গে ফেরত এসেছে আরও ৬১টি আদিবাসী পুরাকীর্তি।
ইনুইটদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা জাতীয় সংগঠন ইনুইট তাপিরিত কানাতামি–র প্রেসিডেন্ট নাতান ওবেদ বলেন, এই কেয়াকটি সম্ভবত বেলাগু (বেলুগা তিমি) শিকারের কাজে ব্যবহৃত হতো। তাঁর ভাষায়, “একজন ইনুইট শিকারীর নিজের জীবন এবং তার কমিউনিটির সুরক্ষার জন্য কেয়াক ছিল সবচেয়ে জরুরি উপকরণগুলোর একটি।”
নাতান ওবেদ আরও জানান, ২০২২ সালে ভ্যাটিকান মিউজিয়ামে কেয়াকটি প্রদর্শিত হতে দেখার পরই ভ্যাটিকানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। ইনুইটদের পক্ষে এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেয় ইনুভায়ালুইত রিজিয়নাল কর্পোরেশন। ওবেদ বলেন, “আমি জানি যে, বিশেষ করে এই কেয়াকটির বিষয়ে তখনকার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি সরাসরি পোপ ফ্রান্সিস ও ক্যাথোলিক চার্চের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এর ফলেই বিষয়টি বৃহৎ আলোচনার পর্যায়ে পৌঁছায়।”
এই আলোচনার ফলস্বরূপ, কেয়াকটির পাশাপাশি ক্যাথোলিক চার্চ তাদের সংগ্রহ থেকে ইনুইটদের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও ৬১টি পুরাকীর্তি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার যেসব সামগ্রী মিউজিয়াম অব হিস্ট্রিতে উন্মুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনুইট পানির থলে, সেলাইয়ের সরঞ্জাম, দড়ি, ব্লেড এবং হারপুনের মাথা।
ইনুইট নেতাদের বিশ্বাস, কয়েক দশক আগে ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা উত্তর কানাডার কোনো এলাকায় কবরের পাশ থেকে এই কেয়াকটি সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারেন। ইনুইট সংস্কৃতিতে মালিকের মৃত্যুর পর জরুরি শিকারি সামগ্রী কবরের পাশে বা ওপর রেখে দেওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল।
বর্তমানে ফেরত আসা সব পুরাকীর্তি গ্যাটিনোর কানাডিয়ান মিউজিয়াম অব হিস্ট্রিতে সংরক্ষিত আছে। তবে এগুলো এখনো সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত সামগ্রীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইনুইট সম্প্রদায়ের কাছে এই প্রত্যাবর্তন শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শন ফেরত পাওয়ার ঘটনা নয়, বরং এটি তাদের সাংস্কৃতিক মর্যাদা, স্মৃতি ও পরিচয়ের পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
