
কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা পর্যালোচনা সংস্থা (এনএসআইআরএ)। এই উদ্যোগের আওতায় ফেডারেল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত প্রধান সংস্থাগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তা কমিউনিটি এআই প্রযুক্তিকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করছে, কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করছে এবং এই প্রযুক্তির নৈতিকতা, ঝুঁকি ও তদারকি কীভাবে করা হচ্ছে তা বিশ্লেষণ করা। সাম্প্রতিক সময়ে নথি অনুবাদ, বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে ম্যালওয়্যারের হুমকি শনাক্তে কানাডার বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই পর্যালোচনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর প্রধানদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পর্যালোচনা সংস্থাটির চেয়ার মেরি দেশচ্যাম্পস জানান, এই গবেষণার ফলাফল নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে গভীর ও সূক্ষ্ম ধারণা দেবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ পর্যালোচনার জন্য দিকনির্দেশনা তৈরি হবে এবং নিরাপত্তা কাঠামোয় কোথায় ঘাটতি বা ঝুঁকি রয়েছে সেগুলোও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পর্যালোচনা শুধুই কাগুজে বিশ্লেষণে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাস্তব ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত কাঠামোর দিকগুলোও এর আওতায় আসতে পারে।
কানাডার আইন অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় পরীক্ষাধীন সব ধরনের তথ্য দেখার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এনএসআইআরএ-এর। এর মধ্যে গোপন ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত। তবে মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) গোপন নথির ক্ষেত্রে এই অধিকার প্রযোজ্য হবে না।
পর্যালোচনা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চিঠিতে বলা হয়েছে, তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে বিভিন্ন নথি, লিখিত ব্যাখ্যা, ব্রিফিং নোট, সাক্ষাৎকার, সমীক্ষা এমনকি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমে সরাসরি প্রবেশাধিকারও চাওয়া হতে পারে। পাশাপাশি কিছু কারিগরি ব্যবস্থার স্বাধীন পরিদর্শনও এই পর্যালোচনার অংশ হতে পারে।
এই উদ্যোগের বিষয়ে একাধিক শীর্ষ মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল উদ্ভাবনমন্ত্রী ইভান সলোমন, জননিরাপত্তামন্ত্রী গারে আনন্দনগরী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এবং শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি।
এছাড়া, দেশের প্রধান নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস, রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ, যোগাযোগ নিরাপত্তা সংস্থা এবং কানাডার সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রমে যুক্ত সংস্থাগুলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই সময়োপযোগী এই পর্যালোচনা কানাডার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
