
গ্রেটার টরন্টো এরিয়ায় (জিটিএ) রিসাইকেলযোগ্য সামগ্রী সংগ্রহে বিলম্ব নিয়ে ক্রমবর্ধমান অভিযোগের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি সংস্থাগুলো সমস্যার সমাধানে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রদেশজুড়ে নতুন রিসাইক্লিং কর্মসূচি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ে সামগ্রী সংগ্রহ না হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অন্টারিও সরকার চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে রিসাইকেলযোগ্য সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এসব সামগ্রী সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার নেতৃত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রাদেশিক রিসাইক্লিং প্রোগ্রাম সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছে অলাভজনক সংস্থা সার্কুলার ম্যাটেরিয়ালস, আর কার্বসাইড রিসাইকেল সামগ্রী সংগ্রহ ও দেখভালের দায়িত্ব পালন করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রিন ফর লাইফ।
তবে কর্মসূচি চালুর প্রথম সপ্তাহেই দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। মিডটাউন টরন্টোর নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাসিন্দাদের রিসাইকেলযোগ্য সামগ্রী সংগ্রহের জন্য কয়েক দিন ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার থেকেই তাদের বিন বা ব্যাগ রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে, অথচ নির্ধারিত দিনে সংগ্রহ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কর্মসূচি কার্যকরের প্রথম দিনটি নববর্ষের ছুটির দিনে পড়ায় সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বিঘ্ন ঘটে থাকতে পারে। পাশাপাশি গার্বেজ ও রিসাইক্লিং সূচিতে পরিবর্তন আসায় মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতিও দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সার্কুলার ম্যাটেরিয়ালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ল্যাঙ্গডন বলেন, “আমরা স্বীকার করছি যে বহু মানুষের রিসাইক্লিং সামগ্রী এখনো সংগ্রহ করা হয়নি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া থাকা সামগ্রীগুলো সংগ্রহ করা।”
তিনি আরও জানান, গার্বেজ সূচিতে পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখেই রিসাইক্লিং সংগ্রহের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। “আমরা চেয়েছি যেন এই পরিবর্তনের মধ্যেও সংগ্রহ কার্যক্রম যতটা সম্ভব মসৃণভাবে চলে,” বলেন ল্যাঙ্গডন।
তবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা। জানা গেছে, অভিযোগ গ্রহণের জন্য সার্কুলার ম্যাটেরিয়ালসের কল সেন্টার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চালু না থাকায় অনেক বাসিন্দা সময়মতো তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারেননি। ফলে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে। ল্যাঙ্গডন বলেন, “বর্তমানে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি বকেয়া সংগ্রহ শেষ করতে। এই পরিবর্তনকালীন সময়ে জনগণ যে ধৈর্য দেখাচ্ছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
নতুন রিসাইক্লিং ব্যবস্থাটি পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, সাময়িক সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠলে দীর্ঘমেয়াদে এই নতুন কাঠামো রিসাইক্লিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করে তুলবে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
