গ্রিনল্যান্ডে সৈন্য পাঠানো হবে কিনা ভাবছে কানাডা

কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিনটি

ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আবারও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা জোরালো করায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি জানাতে সেখানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হবে কি না তা নিয়ে ভাবনায় পড়েছে কানাডা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি সূত্রের বরাতে জানা যায়, গ্রিনল্যান্ডে স্বল্প সংখ্যক কানাডীয় সৈন্য পাঠানোর একটি আপৎকালীন বা কনটিনজেন্সি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত বা সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

- Advertisement -

গত সপ্তাহে এক লিখিত বিবৃতিতে কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিনটি–র প্রেস সচিব জানান, কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে কোনো নতুন সামরিক অভিযানের উদ্যোগ নিচ্ছে না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন মিত্র দেশের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া ও সহযোগিতামূলক অভিযানে নিয়মিতভাবে অংশ নিচ্ছে কানাডা। এটি মূলত ন্যাটো জোট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবেই পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ঘোষণা। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর দাবির বিরোধিতা করা আটটি ইউরোপীয় দেশের সব ধরনের আমদানির ওপর আগামী মাস থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক আরোপ কেবল বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থানের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনামূলক অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্ক–এর সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি কানাডার পূর্ণ ও অটল সমর্থন রয়েছে। সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তের কথা না বললেও এই সমর্থনের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

গ্রিনল্যান্ডে কানাডীয় সেনা পাঠানোর বিষয়টি আদৌ বিবেচনায় আছে কি না এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দি কানাডিয়ান প্রেস। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সার্বিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এখন শুধু একটি আঞ্চলিক বিষয় নয়; এটি উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। কানাডার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ তাই এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে না গেলেও, ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও কৌশলগত সমীকরণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

- Advertisement -

Read More

Recent