ওসাপে পরিবর্তনের কড়া সমালোচনায় এনডিপি নেতা

সোমবার কুইনস পার্কে শিক্ষার্থী ও বিষয়টি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্টাইলিস বলেন অন্টারিওর শিক্ষার্থীরা এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যখন জীবনযাত্রার ব্যয় বাসস্থান সংকট এবং শিক্ষার খরচ সবকিছুই দ্রুত বাড়ছে

অন্টারিও স্টুডেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (ওসাপ)–এর অনুদান কমিয়ে ঋণনির্ভর সহায়তার দিকে যাওয়ার প্রাদেশিক সরকারের সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন অন্টারিওর নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) নেতা মারিট স্টাইলিস। তার মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পরিবর্তন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারগুলোর ওপর আরও বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

সোমবার কুইন’স পার্কে শিক্ষার্থী ও বিষয়টি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্টাইলিস বলেন, অন্টারিওর শিক্ষার্থীরা এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যখন জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসস্থান সংকট এবং শিক্ষার খরচ সবকিছুই দ্রুত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ওসাপের অনুদান কমিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এটিকে অন্টারিওর শিক্ষাব্যবস্থার জন্য “ভয়াবহ সিদ্ধান্ত” বলে আখ্যা দেন।

- Advertisement -

প্রাদেশিক সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওসাপ সহায়তার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগে যেখানে শিক্ষার্থীরা মোট সহায়তার প্রায় ৮৫ শতাংশ অনুদান হিসেবে পেতেন, সেখানে নতুন ব্যবস্থায় অনুদানের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, অধিকাংশ সহায়তাই এখন ঋণ আকারে দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের পরিশোধ করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগে নতুন করে আর্থিক হিসাব-নিকাশ করতে বাধ্য হবেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

স্টাইলিস তার বক্তব্যে প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন। ফোর্ড সম্প্রতি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অনেক শিক্ষার্থী এমন কোর্স বেছে নিচ্ছেন যার বাস্তব চাকরির বাজারে খুব বেশি চাহিদা নেই, ফলে তারা পড়াশোনা শেষ করার পর ঋণ পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়ছেন।

গত সপ্তাহে এক বক্তব্যে ফোর্ড বলেন, “আপনারা এমন অনেক কোর্স নিচ্ছেন যেগুলোর বাস্তবে খুব একটা প্রয়োজন নেই। এসব কোর্স খুব বেশি নেওয়া হচ্ছে। বরং স্বাস্থ্যসেবা বা বাণিজ্য খাতে যান সেখানে চাকরি আছে।” তবে এই মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্টাইলিস বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য আমার রক্ত গরম করে দিয়েছে।” তার দাবি, কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের তুলনায় অন্টারিওতেই তরুণদের বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। তাই শুধুমাত্র কোর্স নির্বাচনের দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সমস্যার বাস্তবতা থেকে চোখ ফেরানোর শামিল।

স্টাইলিস আরও বলেন, তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খনিজ খাতের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে তা হলো সব ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ নেই। অনেক দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানুষ কাজের সুযোগের অভাবে সমস্যায় পড়ছেন। তার ভাষায়, “প্রিমিয়ার যে ‘চাহিদাসম্পন্ন ডিগ্রি’ বা চাকরির নিশ্চয়তা দেয় এমন কোর্সের কথা বলছেন, সেই সংজ্ঞা নির্ধারণ করার মতো যোগ্যতা তার আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন আছে। বাস্তবতা হলো, শিক্ষার্থীরা শুধু কোর্স নির্বাচন করলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না।”

এনডিপি নেত্রীর মতে, ওসাপের অনুদান কমানো মানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আরও বেশি ঋণের বোঝায় চাপিয়ে দেওয়া। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষার ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ওসাপের মতো সহায়তা কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুদানের পরিমাণ কমে গেলে অনেক শিক্ষার্থী হয়তো পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন না অথবা পড়াশোনা শেষে বড় অঙ্কের ঋণের দায়ে পড়বেন।

সব মিলিয়ে, ওসাপ সংস্কারকে ঘিরে অন্টারিওর রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে সরকার মনে করছে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষাকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন, অন্যদিকে বিরোধী দল ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো বলছে এই সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষাকে আরও ব্যয়বহুল ও অপ্রাপ্য করে তুলবে। ফলে আগামী দিনগুলোতে এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent