এগলিন্টন এলআরটি পথচারীদের আনাগোনা বাড়াবে বলে প্রত্যাশা

এগলিন্টন এলআরটির একটি স্টেশন যাত্রী অনেক বেশি নয়

টরন্টোর এগলিন্টন এভিনিউ ওয়েস্টের কিল স্ট্রিট ও অ্যালেন রোডের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘লিটল জ্যামাইকা’। বহু বছর ধরে এই এলাকা শহরের ক্যারিবীয় সংস্কৃতি, সঙ্গীত, খাবার ও ব্যবসার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলা এগলিন্টন ক্রসটাউন লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি) নির্মাণ প্রকল্প স্থানীয় ব্যবসাগুলোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। অনেক দোকানমালিকের মতে, বছরের পর বছর ধরে চলা নির্মাণকাজ তাদের ব্যবসাকে প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাস্তার দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণ, পথচারীর কম উপস্থিতি এবং গ্রাহক প্রবাহের ঘাটতির কারণে অনেক দোকান টিকে থাকতে পারেনি। সম্প্রতি লাইন ৫ চালু হওয়ার খবর কিছুটা আশার আলো দেখালেও, অনেক ব্যবসা ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। এমনই এক ব্যবসায়ী জুলিয়া, যিনি মাত্র এক বছর আগে এই এলাকায় দোকান খুলেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়েছেন দোকানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে। জুলিয়া বলেন, “হ্যাঁ, আমি আমার দোকানটি বন্ধ করে দিচ্ছি। আমরা ভেবেছিলাম অভিজ্ঞতাটা অন্যরকম হবে। কিন্তু যে পরিমাণ ক্রেতা আসে, তা দিয়ে এ ধরনের ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে এখনকার ব্যবসার খরচের কথা বিবেচনা করলে দোকান চালিয়ে রাখা খুবই কঠিন।”

- Advertisement -

জুলিয়ার মতে, ২০২৪ সালে তিনি বড় আশা নিয়েই এগলিন্টন এভিনিউ ওয়েস্টে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, ওই সময়ের মধ্যেই লাইন ৫ চালু হবে এবং এলাকাটিতে মানুষের আনাগোনা বাড়বে। কিন্তু প্রকল্পের বারবার বিলম্ব তার ব্যবসার ওপর বড় আঘাত হানে। তিনি বলেন, “ধারাবাহিক বিলম্বের মধ্যেও আমরা ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। শুনেছিলাম জুলাই মাসে এটি চালু হবে। তখন ভেবেছিলাম, আর কিছুদিন দেখি কী হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের দোকান বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। সত্যি বলতে আমাদের ওপর যে ঝড়টা এসেছে, তা খুবই ভয়াবহ ছিল। এটা খুবই দুঃখজনক।”

জুলিয়ার মতো একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরেক ব্যবসায়ী সীমা গনজালোস। নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সময় তিনি ভাবেননি যে এর প্রভাব এতটা গভীর হবে। সীমা বলেন, “নির্মাণ শুরু হওয়ার সময় আমি মনে করিনি যে পথচারীর উপস্থিতি এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কিন্তু পরে বুঝলাম, মানুষের চলাচল কমে গেলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা খুব কঠিন।”

তবে এখনও পুরোপুরি আশাহত নন এলাকার অনেক ব্যবসায়ী। তাদের মতে, লাইন ৫ চালু হওয়ার ফলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু ব্যবসায়ী পথচারীর সংখ্যা বাড়তে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী টরন্টো বাংলা টাউনকে বলেন, “লাইন ৫ চালু হওয়ার পরপরই আমি কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। মানুষের যাতায়াত একটু বেড়েছে। তবে বাস্তবিক প্রভাব দেখতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে আমি মনে করি।”

ওকউড এলাকার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকও একই ধরনের আশার কথা বলছেন। তাদের মতে, এই এলাকা শুধু ব্যবসার জায়গা নয়, বরং এটি একটি সাংস্কৃতিক কমিউনিটির প্রতীক। তাই তারা চান না যে একে একে স্থানীয় দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাক। স্থানীয় ব্যবসায়ী সুজানা বলেন, “কমিউনিটির কোনো দোকান বন্ধ হয়ে যেতে দেখা খুবই কষ্টের বিষয়। এসব দোকানই আমাদের এলাকার প্রাণ।”

বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনে। কিন্তু নির্মাণ চলাকালে স্থানীয় ব্যবসাগুলো প্রায়ই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। লিটল জ্যামাইকার ক্ষেত্রেও সেই বাস্তবতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এখন ব্যবসায়ীদের আশা, নতুন ট্রানজিট লাইন চালুর ফলে এলাকাটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং ধীরে ধীরে হারানো ক্রেতা ও ব্যবসার সুযোগ ফিরে আসবে। তবে সেই প্রত্যাবর্তনের জন্য সময় লাগবে বলেই মনে করছেন তারা।

Rezaul Haque : Local Journalism Initiative Reporter

- Advertisement -

Read More

Recent