
টরন্টো শহরে দিন দিন বাড়তে থাকা খাদ্যদ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। সাপ্তাহিক গ্রোসারি খরচ মেটানো এখন অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচা সবজি থেকে শুরু করে চাল-ডাল, তেল, মশলা প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে বহু মানুষ বাধ্য হয়ে ফুড ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
বার্চমাউন্ট রোডের একটি দেশি গ্রোসারির কর্নধার আব্দুল মালিক বলেন, শুধু মূল্যবৃদ্ধিই নয়, শহরের কিছু এলাকায় সাশ্রয়ী মূল্যে গ্রোসারি পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। এসব এলাকাকে অনেক সময় “ফুড ডেজার্ট” হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যেখানে নিকটবর্তী সুলভ খাদ্যপণ্যের দোকান কম বা নেই বললেই চলে। ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো দ্বিগুণ সমস্যার মুখে পড়ছে একদিকে উচ্চমূল্য, অন্যদিকে সহজলভ্যতার অভাব।
এই প্রেক্ষাপটে টরন্টো সিটি কাউন্সিলর অ্যান্থনি পেরুজ্জা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব সামনে এনেছেন। তিনি মনে করেন, খাদ্য মানুষের অন্যতম প্রধান ব্যয় খাত হওয়ায় এই ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে নাগরিকদের জীবনে বাস্তব স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
পেরুজ্জা প্রস্তাব করেছেন, সিটি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে চারটি গ্রোসারি স্টোর চালু করা হোক, যা প্রত্যেকটি কমিউনিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্টে স্থাপন করা হবে। এসব স্টোরের মূল লক্ষ্য হবে যতটা সম্ভব কম দামে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা। বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সেইসব এলাকায়, যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি এবং গ্রোসারি স্টোরের সহজ প্রবেশাধিকার নেই। তার মতে, এটি শুধু একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়, বরং একটি সামাজিক প্রকল্প। পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই উদ্যোগ সফল হলে তা খাদ্য অনিরাপত্তা সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
এ ধরনের উদ্যোগের দৃষ্টান্ত অন্য শহরেও দেখা যাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিও একই ধরনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, চারটি সিটি-চালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করতে প্রায় ৭ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফার্মেসি এভিনিউ এলাকার বাসিন্দা অলোক বোস বলেন, “যদি সিটি নিজেই কম দামে গ্রোসারি সরবরাহ করে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য তা বড় স্বস্তির বিষয় হবে।”
তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু প্রশ্নও উঠছে। যেমন সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত স্টোরগুলো কীভাবে বাজার প্রতিযোগিতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলবে, এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি কতটা টেকসই হবে। তবুও, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, সাহসী ও নতুন ধরনের পদক্ষেপ ছাড়া খাদ্যদ্রব্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
কমিউনিটি এ্যাকটিভিস্ট আসিফ আহমেদ বলেন, টরন্টোতে খাদ্য নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে এই প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে নগর নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার
