নন-স্টেট অ্যাকটরদের কে নামিয়েছিল?

মাসুদুল হাসান রনি

যারা প্রথম আলোর এক কর্মীর চাকুরিচ্যুত হওয়া নিয়ে শোরগোল করছেন, সরকারকে স্বৈরাচার হবার সুচনার বিন্দু বলছেন তারা বিগত সরকারের সময় মব করে সাংবাদিক অপদস্থ, চাকুরিচ্যুত করা, মিথ্যামামলায় জেলে ঢোকানো, ৪ জন সাংবাদিক হত্যা নিয়ে টু শব্দ করেনি। এরা এখনো এনসিপি- জামায়াতকে রক্ষা ও ইউনুসের গুনকীর্তন করে। সুযোগ পেলেই সকল অন্যায়ের প্রতিবাদকারী সুশীল, বাম প্রগতিশীলদের আওয়ামী দোসর শুধু বলে না, কোলকাতার দালাল বলে ট্যাগ দেয়।

কি একটা অবস্থা!

- Advertisement -

ইউনুসের আমলে অনেক কিছুই হয়েছে। সেইসব লিখে শেষ করা যাবে না। মাত্র ১৮ মাসে একটা সরকার পুরো দেশটাকে কিভাবে জাহান্নামে বানিয়েছে, যার অংশীজন জামায়াত-এনসিপি ও তাদের অনুসারীদের একদিন জবাব দিতেই হবে।

যাহোক, ড.ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকটি উপায়ে গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। প্রথমত, হলো নন-স্টেট অ্যাকটরদের ব্যবহার, দ্বিতীয় হলো আইনি ভয় এবং তৃতীয়ত প্রচলিত নিপীড়নমূলক আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

নন-স্টেট অ্যাকটরের বড় ভুমিকা রেখেছিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, হাসনাত,সার্জিস, হান্নান,নাহিদ, পাটোয়ারি,আক্তার ও এনসিপির পুরো গ্যাংস্টাররা। সাথে ছিল জামায়াত-শিবিরের গুপ্ত দল ও জুলাইযোদ্ধা নামে সুবিধাভোগীরা।

সরকারের ভেতর থাকা মুস্তাইন জহির,ছোটন গংদের উপদেস্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কিংবা সমন্বয়ক পরিচয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে স্বৈরাচারের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে অনেককে চাকরিচ্যুত করার হাজারটা অভিযোগ আছে।

আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে,

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সময় টেলিভিশনের ৫ সাংবাদিকের আকস্মিক চাকরিচ্যুতি ও ছাঁটাই নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ততকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ চাপ প্রয়োগ করে তাদের চাকুরী থেকে বাদ দিতে বাধ্য করেছেন। এই ঘটনার টেলিফোন রেকর্ড খুঁজলে এখনো পাওয়া যাবে।

আরো স্মরন করিয়ে দেই, সংস্কৃতি উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করার জের ধরে তিনজন সাংবাদিকের চাকরি চলে যায়। গণমাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, তারা যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন মবের ভয়ে চাকরিচ্যুত করতে বাধ্য হয়। কারণ ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠান ঘেরাও ও হামলার হুমকি দেয়া হয়। সরকার থেকে জানানো হয় ওই তিন সাংবাদিকের চাকরিচ্যুত হওয়ার পেছনে সরকারের কোনও দায় নেই।

ওয়েল সেইড।

আজকে সেইসব ব্যক্তিরা প্রথম আলোর সাংবাদিকের বরখাস্ত হওয়া নিয়ে সরকারকে দায়ী করছেন, তারা  ইউনুসের আমলে জানতে কি চেয়েছেন সাংবাদিকদের চাকুরিচুত্যির জন্য নন-স্টেট অ্যাকটরদের কে নামিয়েছিল?

পুনশ্চ: প্রথম আলো হতে কর্মীকে বরখাস্ত করা সেটা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়।  স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর ছবি দিয়ে কুরুচিপূর্ণ কোন কিছু মোবাইল বা অন্য কোন ডিভাইসে সেভ করা সেটাও কর্মীর স্বাধীনতা। কিন্ত এটাকে পুঁজি করে প্রথম আলো কোন ভয়ে বা চাপে কাউকে বরখাস্ত করে থাকে তা অন্যায় ও নিন্দনীয়।

 

মন্ট্রিয়ল, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent