
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে সেখানে অবস্থানরত কানাডীয় নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে কানাডা সরকার। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে আট হাজার কানাডীয় নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা অঞ্চলটি ত্যাগ করে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। পাশাপাশি আরও এক হাজারের বেশি ব্যক্তি নিরাপদ তৃতীয় কোনো দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিদেশে থাকা কানাডীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর মাধ্যমে নাগরিকদের সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যাতায়াতের পথ খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনে দ্রুত দেশত্যাগে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের জরুরি সহায়তা ব্যবস্থাও এই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকরা যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সহায়তা চাইতে পারেন। বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে এই পরিষেবায় কর্মীসংখ্যা বাড়ানো হয় এবং দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হয়, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
নাগরিকদের সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রথমেই বাণিজ্যিক ফ্লাইটের সুযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। যেখানে সম্ভব, সেখানে আগাম নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন সংরক্ষণ করা হয়, যাতে নাগরিকরা সহজে দেশে ফিরতে পারেন। তবে পরিস্থিতি জটিল হলে বিশেষ উড়োজাহাজ বা স্থলপথে পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হয় বিশেষ করে যখন নিয়মিত যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
এছাড়া কানাডা অনেক সময় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক দেশের নাগরিক অন্য দেশের ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে পারেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সম্পর্কে নাগরিকদের সতর্ক করতে নিয়মিত ভ্রমণ পরামর্শ জারি রাখা হয়।
সংঘাতের শুরুর দিকে সহায়তার জন্য বিপুল সংখ্যক অনুরোধ আসে। প্রতিদিন অসংখ্য ফোনকল ও বার্তা সামাল দিতে কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় সহায়তার অনুরোধের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে বলে জানা গেছে।
তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কানাডীয় এখনো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন এবং কর্মসংস্থান বা পারিবারিক কারণে সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউ কেউ অসুস্থ স্বজনের দেখাশোনা বা ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার কারণেও দেশ ছাড়ছেন না।
এই ধরনের উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। অতীতে বিভিন্ন সংকটে বিশেষ উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা, দূতাবাসের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। সাধারণত নাগরিকদের কাছ থেকে যাতায়াত ব্যয়ের একটি অংশ নেওয়া হলেও অতিরিক্ত খরচ সরকারই বহন করে।
বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কানাডা সরকার ইতোমধ্যেই তাদের সংকট মোকাবিলা সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে।
সমগ্র পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতার মধ্যে বিদেশে থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন প্রতিটি দেশের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
