
কানাডার আবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড যৌথভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে প্রদেশজুড়ে নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে মিউনিসিপাল উন্নয়ন মাশুল ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। এই ঘোষণা দেওয়া হয় টরন্টো এলাকায় এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে, যেখানে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন নির্মাণে উৎসাহ জোগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, তাতে কী আবাসন সংকট কমবে?
গত কয়েক বছর ধরে কানাডায়, বিশেষ করে অন্টারিওতে, বাড়ির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে মিউনিসিপাল উন্নয়ন মাশুল, যা নতুন সড়ক, পানির লাইন, সিউয়েজ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের খরচ মেটাতে আরোপ করা হয়। এই মাশুলের কারণে একটি নতুন বাড়ি নির্মাণে হাজার হাজার ডলার অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়, যা শেষ পর্যন্ত ক্রেতার ওপর চাপ হিসেবে পড়ে। বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চান, তাদের জন্য এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই ঘোষণার আগেই ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত মূল্যের ওপর ১৩ শতাংশ এইচএসটি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই দুই সিদ্ধান্ত একসঙ্গে কার্যকর হলে বাড়ি নির্মাণ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যদিও এই উদ্যোগ আবাসন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তবে এর কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মিউনিসিপালিটিগুলো তাদের অবকাঠামোগত ব্যয় মেটাতে এই উন্নয়ন মাশুলের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে মাশুল কমানো হলে তাদের বিকল্প অর্থের উৎস খুঁজতে হবে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে সম্পদ কর বৃদ্ধি একটি বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে, যা ভবিষ্যতে নাগরিকদের ওপর অন্য ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই মাশুল হ্রাসের ফলে যে আর্থিক ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণ করা হবে “বিল্ড কমিউনিটিজ স্ট্রং ফান্ড” থেকে। এই তহবিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল গত নভেম্বরে ফেডারেল বাজেটে। এর আওতায় আগামী ১০ বছরে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৫১ বিলিয়ন ডলার (৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করা হবে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই যৌথ উদ্যোগের ফলে : অন্টারিওতে বাড়ি নির্মাণের গতি বাড়বে, প্রায় ২১,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রদেশের জিডিপিতে অতিরিক্ত ২.৭ বিলিয়ন ডলার (২৭০ কোটি ডলার) যুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী কার্নি আশা প্রকাশ করেন, এই অংশীদারিত্ব শুধু আবাসন সংকট নিরসনেই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই উদ্যোগকে অনেকেই “দ্বিমুখী কৌশল” হিসেবে দেখছেন একদিকে নির্মাণ খরচ কমিয়ে সরবরাহ বাড়ানো, অন্যদিকে কর ও মাশুল কমিয়ে ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা সহজ করা। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর সাফল্য নির্ভর করবে মিউনিসিপাল অর্থায়নের বিকল্প ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর। এটি কানাডার আবাসন খাতে একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন, যার প্রভাব আগামী কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে।
রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ
