
অন্টারিও প্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ফোর্ড সরকারের আনা অমনিবাস বাজেট বিলকে কেন্দ্র করে। বিলটি পাস করানোর লক্ষ্যে সরকার কুইন’স পার্কে বিরল লেট-নাইট অধিবেশনের আয়োজন করায় বিরোধীদল এবং বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, বিলের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত ফ্রিডম অব ইনফরমেশন (এফওআই) আইনে প্রস্তাবিত পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
সাধারণত আইনসভায় কোনো বিল উত্থাপিত হলে তা বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য কমিটিতে পাঠানো হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের মতামত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা সংশোধনী প্রস্তাব দেন এবং তা নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু এই বাজেট বিলের ক্ষেত্রে সেই প্রচলিত প্রক্রিয়া আংশিকভাবে এড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন হাউজে সরকারি দলের নেতা স্টিভ ক্লার্ক। ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাজেট বিলটিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রদেশের কনজার্ভেশন অথরিটিগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তন এবং রিসেল টিকিটের ওপর সর্বোচ্চ মূল্যসীমা আরোপ। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি হলো এফওআই আইনে সংশোধন।
এই পরিবর্তন কার্যকর হলে প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড, তার মন্ত্রিসভার সদস্য এবং তাদের কর্মকর্তাদের অনেক তথ্য জনসাধারণের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। ইতোমধ্যে ফোর্ড স্বীকার করেছেন যে, গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তার ব্যক্তিগত সেলফোনের রেকর্ড চাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করাও এই উদ্যোগের একটি কারণ। এই মন্তব্য আরও বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিলটি কয়েক সপ্তাহ ধরে কমিটিতে থাকলেও কার্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে লেট-নাইট অধিবেশন ডেকে দ্রুত বিল পাসের উদ্যোগকে বিরোধীরা “তড়িঘড়ি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আখ্যা দিচ্ছে।
অন্টারিও এনডিপি এবং লিবারেল পার্টি উভয়ই এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে। এনডিপি নেতা মারিট স্টাইলিস অভিযোগ করেছেন, “এই পরিবর্তনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সরকারের সম্ভাব্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে জনগণ, গণমাধ্যম এবং জবাবদিহিতা দাবি করা নাগরিকদের কাছ থেকে আড়াল করা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি অন্টারিওতে স্বচ্ছতা বনাম ক্ষমতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। একদিকে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ করার যুক্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকোচনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
বাজেট বিলটি শুধু অর্থনৈতিক নীতিমালার দলিল নয়, বরং এটি এখন অন্টারিওর রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জবাবদিহিতা এবং তথ্যের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ
