
ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশটি নিরবচ্ছিন্নভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনুসরণ করে আসছে। দীর্ঘ এই চর্চার ফলে সেখানে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
ভারতের সশস্ত্র বাহিনী একটি পেশাদার, সুশৃঙ্খল ও সংবিধানসম্মত বাহিনী, যা বেসামরিক সরকারের অধীন থেকেই দায়িত্ব পালন করে। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল বা সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীর কোনো প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের নজির নেই। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। এ কারণেই ভারতে সামরিক অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
ভারতে আন্দোলন হবে, বিক্ষোভ হবে, রাজনৈতিক সংকটও তৈরি হতে পারে। এমনকি সরকারের পদত্যাগের মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু তার পরও ক্ষমতার পরিবর্তন হবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী। সরকার পদত্যাগ করলে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই নতুন সরকার গঠিত হবে।
বর্তমানে ভারতে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ পার্টির ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। তারা যত বড় আন্দোলনই গড়ে তুলুক না কেন, ক্ষমতায় আসতে হলে শেষ পর্যন্ত তাদেরও সংবিধান ও নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই জনগণের রায় অর্জন করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা বা সরকারের পদত্যাগের দাবি তোলা সম্ভব, কিন্তু ভারতের মতো প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রে আন্দোলনের মাধ্যমে সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই। ককরোচ পার্টিও যদি কখনো সরকার গঠন করতে চায়, তবে তাদেরও নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের ভোটে জয়ী হয়েই ক্ষমতায় আসতে হবে।
তাই বাংলাদেশ, নেপাল কিংবা শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির সরাসরি তুলনা করা সঠিক হবে না। প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, সাংবিধানিক কাঠামো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভিন্ন। ফলে এক দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মডেল অন্য দেশের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে—এমনটি ধরে নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
ভারতে কোনো অনিয়মতান্ত্রিক অন্তর্বর্তী সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা সামরিক ফরমানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের সম্ভাবনা কার্যত নেই। সেখানে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র বৈধ ও গ্রহণযোগ্য পথ হলো নির্বাচন এবং জনগণের রায়।
একই কথা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডাসহ বিশ্বের আরও অনেক প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেসব দেশে স্বাধীনতার পর থেকে বা দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে চর্চিত হয়ে আসছে, সেসব দেশে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র বৈধ পথ হলো নির্বাচন। আন্দোলন, বিক্ষোভ কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে সংবিধান, আইন এবং জনগণের ভোটের মাধ্যমেই।
