
টরন্টো শহর জুলাই মাসের মাঝামাঝি ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝড়ের কারণে শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রায় ১,৬৭,০০০-এর বেশি গ্রাহক একযোগে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, যা শহরের দৈনন্দিন জীবনকে অচল করে দেয়।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই বিপর্যয়ের প্রভাব ভিন্ন মাত্রায় পড়েছে। হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ট্রানজিট ব্যবস্থা এবং সাধারণ পরিবার সবাইই এর শিকার হয়। বিশেষ করে ডাউনটাউনের ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাস্তায় ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। বাস ও সাবওয়ে পরিষেবার অনেক রুট সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। হাসপাতালগুলো জরুরি জেনারেটরের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখলেও ছোট ক্লিনিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হয়।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা জানায়, হঠাৎ অতিবৃষ্টিতে প্রধান একটি ট্রান্সমিশন স্টেশন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় একাধিক সাবস্টেশন একযোগে কাজ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে অনেক এলাকা দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকে। ১৭ জুলাই বিকেল পর্যন্তও প্রায় ৩,২০০ গ্রাহক বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না, এবং সম্পূর্ণ পরিষেবা পুনরুদ্ধারে আরও কয়েক দিনের প্রয়োজন হতে পারে।
বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, টরন্টোর বিদ্যুৎ অবকাঠামো পুরনো এবং আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতি বছর ভারী বর্ষণ বা ঝড়ের কারণে একই ধরনের বিপর্যয় ঘটছে, তবে যথাযথ সংস্কার করা হচ্ছে না। অনেক পরিবার জানিয়েছে, খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেছে, আর ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেছেন, পণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই এক দিনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় শহরের অর্থনীতিতে কয়েক শ’ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং পরিবহন ব্যবস্থার বিপর্যয় ক্ষতির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে টরন্টোতে হঠাৎ বন্যা ও ঝড়বৃষ্টির ঘটনা বেড়ে গেছে, কিন্তু বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলায় অবিলম্বে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি, নইলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে হবে।
টরন্টোর সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিপর্যয় শুধুমাত্র নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করেনি, বরং শহরের পুরোনো এবং দুর্বল অবকাঠামোর চিত্রকেও সামনে এনেছে। এটি আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার প্রতিফলন এবং ভবিষ্যতের সংস্কারের অতি জরুরি প্রয়োজনের সতর্ক সংকেত।
