
উত্তর আমেরিকার প্রযুক্তি মানচিত্রে আবারও আলোড়ন তৈরি করেছে টরন্টোর একটি উদীয়মান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক স্টার্টআপ। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি সিরিজ-সি রাউন্ডে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৮ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার) বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। এই বিনিয়োগের নেতৃত্ব দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান, এবং এতে ইউরোপ ও এশিয়ার প্রভাবশালী তহবিলগুলোও অংশ নিয়েছে। এটিকে উত্তর আমেরিকার এআই খাতের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক খাত এবং প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করছে। চিকিৎসা খাতে এটি রোগীর ডেটা দ্রুত বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতি প্রতিরোধ করবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য আরও বুদ্ধিমান ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরি করবে। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান প্ল্যাটফর্ম ইতিমধ্যেই ১.৫ মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছেছে।
টরন্টো শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিনিয়োগ স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী তিন বছরের মধ্যে এই স্টার্টআপ সরাসরি অন্তত ৩০০ নতুন উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন চাকরি তৈরি করবে। এর মধ্যে থাকছে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, গবেষক এবং প্রোডাক্ট ডিজাইনার। এছাড়াও পরোক্ষভাবে আরও প্রায় ১,০০০ জনের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একজন বিশেষজ্ঞ টরন্টো বাংলা টাউনকে বলেন, ২০২৩ সালে কানাডার এআই শিল্পের বাজারমূল্য প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ছিল। এবং এই খাত ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত ৮.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে টরন্টোতে ৫০০টিরও বেশি এআই ও মেশিন লার্নিং স্টার্টআপ কার্যক্রম চালাচ্ছে, এবং এর মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সফলভাবে টিকে আছে। গবেষণা প্রকাশনা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের দিক দিয়ে টরন্টো এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে স্বীকৃত। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো ও ভেক্টর ইনস্টিটিউট এই অগ্রযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছে।
নতুন বিনিয়োগের প্রায় ২০% অর্থ R&D-তে বরাদ্দ করা হয়েছে। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার, ডেটা প্রাইভেসি এবং টেকসই প্রযুক্তি উন্নয়নে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি এশিয়া ও ইউরোপে নতুন অফিস স্থাপন করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে।
শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিনিয়োগ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, বরং কানাডার প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতীক। গত পাঁচ বছরে কানাডায় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ দ্বিগুণ হয়েছে, যার বড় অংশই প্রযুক্তি ও এআই খাতে প্রবাহিত হয়েছে।
টরন্টোর এই এআই স্টার্টআপের ৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ কেবল স্থানীয় অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতকে সমৃদ্ধ করবে না, বরং কানাডাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শহরের তরুণ উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে এবং নতুন উদ্ভাবনের দিগন্ত উন্মোচনে সহায়ক হবে।
