
ছুটির দিনের সকাল ; সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের পরে ভীষণ মূল্যবান আমার কাছে আর আমি কি না আলসেমি করছি,অথচ হাতে একগাদা কাজের লিষ্ট, ঘর পরিস্কার করা,রান্না,লন্ড্ৰি,ফ্লোর পলিশ,এদিকে সামার চলেই এসেছে, আবার বৃষ্টি হবে,গত কয়েকদিন ধরেই অল্প সল্প করে লনের কাজ করছি আর নিজেকে বকাঝকা করছি এইজন্য যে কোন বুদ্ধিতে এতোবড় লনসহ বাড়ী কিনতে গেলাম! যাইহোক আলসেমি করে দরজা খুলতেই পাখির শব্দ, ঠিক মধুর না ,কেমন যেন উচ্চস্বরে চেঁচামেচি করছে ,এই প্ৰথম পাখির স্বরকে ঠিক পাখির স্বরের মতো মনে হলো না , প্ৰথমে একজনকে দেখলাম,ধূসর রংয়ের, এ গাছ থেকে সে গাছ করছে ,আবার কখনো গাছে গাছে ঘুরছে,কিছুক্ষণ পরে আরেকজন এলো ,কি দারূন দেখতে! লালঝুটি ,শরীর ভৰ্তি লালের পেলবতা, এতোক্ষনে বুঝতে পারলাম, মনে হয় সংগীকে ডাকছিলো।
যাইহোক এদের এই প্ৰেম ভালোবাসা দেখে সময় নষ্ট না করে কাজে মনোযোগ দিলাম, এর মধ্যে কানাডা থেকে ছোট বোন কল দিলো,আপু কি করো? আজ তোমার কি প্লান, বাগানের কদ্দুর ? আমিও টুকটাক কথা চালালাম, ও বললো এতো শব্দ কিসের? আমি বল্লাম , মনে হয় এরা প্ৰেম করছে,তাই সংগীকে ডাকছে,কিন্তু দ্যাখ কি বিশ্ৰীভাবে চিল্লাচ্ছে,কি হতো একটু সুন্দর করে ডাকলে ? মোটেই গল্পে পড়া পাখির শব্দের সাথে মিলছেনা। ও বললো, ” পারোও তুমি রাজ্যের ভাবনা নিয়ে মাথায় ঘুরতে।” যাইহোক ও রেখে দিলে আমি সত্যি সত্যিই কাজে লেগে যাই ,কিন্তু এদের মাইক বাজানি চলছেই। এক সময় এমন হলো যে আমি কি করছি সেটাই ফোকাস পয়েন্ট হলো, বাকী সব গৌন।
যাইহোক আমার ম্যারাথন গতিতে অলমোষ্ট প্ৰায় কাজই শেষ,দুপুর হয়ে আসছে,নাওয়া- খাওয়া আছে, রেষ্ট তো বাদই দিলাম, নিজেকে মনে হচ্ছে ‘সদরউদ্দিনের মা’, (নাতি খাতি বেলা গেল,শুতি পারলাম না!)।
বাগান থেকে চলে আসবো হঠাৎ দেখলাম বাইরের দেয়াল ঘেসে গাছের পেছনে একটা আগাছার চারা বড় হচ্ছে, ভাবলাম একে আর বাড়তে দিয়ে লাভ নেই ,পরে মাথায় উঠবে ,তুলে ফেলতে যাবো তখন দেখি ডালের মধ্যে এক পা দিয়ে কাচুমাঁচু হয়ে একটা বাচ্চা পাখি, আবার পায়ের নীচেও পাখির শব্দ, তাকিয়ে দেখি খালি ফুলের টবে আরেকজন পড়ে গিয়ে শব্দ করছে। ততক্ষনে সকালে ডেকে উঠা পাখি দুটোর কথা মনে হলো ,ওরা তাহ’লে প্ৰেম করছিলো না কিংবা একজন অন্য জনকে ডাকছিলো না , ওদের বাচ্চাদুটো হারিয়ে গেছে ,তাই তো উচ্চস্বরে ডেকেই যাচ্ছিল। হূট করে আমি আমার ভুলটা ধরতে পারলাম ।ইস্ রে সবকিছু না জেনেই ধারনা করতে নেই ,কবে যে কিছু জ্ঞান হবে আমার!!
ততক্ষনে ওদের পিতা-মাতা বোয়িং 707 এর মতো আমার মাথার উপরে চক্কর খাচ্ছিল। আর এই বোকা আমি এখন বুঝতে পারলাম কেন ওরা আমার বারান্দার কাছাকাছি ছিলো সারাবেলা,দৌড়ে যাই গাছের সারি সারি ঝাড়ের কাছে যেয়ে দেখি একটা বাসা এবং সেটা শূণ্য পড়ে আছে ।
তারমানে বাচ্চা পাখি দুটো নিখোঁজ এবং বাবা-মা ওদের খোঁজ করছে!
দুপুর তিনটাঃ
আমার মেয়ে বাইরে থেকে কল করেছে,মা তুমি ঠিক আছো ? তোমার কি হয়েছে ? তুমি খালামনিকে কি ম্যাসেজ দিয়েছো ? খালামনি তো ভয়ে অস্তির, জলদি কল করো খালাকে।
আমি বললাম, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, বাচ্চা পাখিটা গাছ থেকে নীচে পড়ে গেছে, ওকে তুলতে হবে । আমি আবার কখন কল দিলাম খালামনিকে?
মেয়ে বল্লো,রাখো তোমার পাখি ,আগে খালামনিকে কল দাও ,জানাও যে তুমি ভালো আছো।
টরেন্টো ,কানাডা
