প্রদেশ ও অঞ্চলগুলোকে ২৫ বিলিয়ন ডলার দিতে চায় তিন টোব্যাকো জায়ান্ট

জেটিআই ম্যাকডোনাল্ড কর্পোরেশন রথম্যান্স বেনসন অ্যান্ড হেজেস এবং ইম্পেরিয়াল টোব্যাকো কানাডা লিমিটেড তাদের ঋণদাতাদের সঙ্গে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে দর কষাকষি করার পর অন্টারিও কোর্টে এই প্রস্তাব দাখিল করা হয়

প্রদেশ ও অঞ্চলগুলোকে আড়াই হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি পরিমাণ অর্থ প্রদানের প্রস্তাব করেছে তামাক খাতের তিন জায়ান্ট। পাশাপাশি কুইবেকের হাজার হাজার ধুমপায়ী ও তাদের প্রিয়জনদের ৪০০ কোটি ডলারের বেশি দিতে চায় তারা। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ফলে যে কর্পোরেট পুনর্গঠনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার অংশ হিসেবে এই অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব করেছে কোম্পানিগুলো।

জেটিআই-ম্যাকডোনাল্ড কর্পোরেশন, রথম্যান্স, বেনসন অ্যান্ড হেজেস এবং ইম্পেরিয়াল টোব্যাকো কানাডা লিমিটেড তাদের ঋণদাতাদের সঙ্গে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে দর-কষাকষি করার পর অন্টারিও কোর্টে এই প্রস্তাব দাখিল করা হয়। কুইবেকের ঐতিহাসিক আইনি লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর কোম্পানিগুলো ২০১৯ সালের গোড়ার দিকে অন্টারিওতে ঋণদাতাদের কাছ থেকে সুরক্ষা চায়। ঋণদাতাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করায় অন্টারিও কোর্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত রাখে।

- Advertisement -

দাখিল করা প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় প্রদেশ ও অঞ্চলগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থ পাবে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ৬০০ কোটি ডলারের মতো দেওয়া হবে। কুইবেকের ফরিয়াদিদের প্রত্যেকে এক লাখ ডলার করে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে অন্যান্য প্রদেশ ও অঞ্চলের যেসব ধুমপায়ী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের জন্য ২৫০ কোটি ডলার। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে যাদের ফুসফসের ক্যানসার, থ্রোট কানসার অথবা ক্রনিক পালমোনারি ডিজিজ শনাক্ত হয়েছে তারা এর আওতাভুক্ত হবেন। তাদের প্রত্যেকে ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রাপ্য হবেন।

কুইবেকের ফরিয়াদির পক্ষের একজন আইনজীবী ব্রুস ডব্লিউ. জনস্টন বলেন, প্রস্তাবটি ঐতিহাসিক এবং নজিরবিহীন। কারণ, এটা ধুমপায়ী ও সরকারগুলোকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা যখন মামলাটি হাতে নিই তখন একজন ফরিয়াদিও তামাক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে কোনো অর্থ পাননি। আমরা মামলাটি ১৯৯৮ সালে হাতে নিই এবং এর ফলে কেবল কানাডার লাখ লাখ ভুক্তভোগীই তামাক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণই পাবেন না, সরকারগুলোও ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবে। ভুক্তভোগীদের সিংহভাগই কুইবেকের বাসিন্দা।

কুইবেকের মামলায় তারা পক্ষভুক্ত হয়েছেন যারা ১৯৫০ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে ধুমপানের অভ্যাস গড়ে তুলেছিলেন এবং অসুস্থ্য হয়ে পড়েন অথবা আসক্ত হয়ে যান। এসব ধুমপায়ীর উত্তরাধীকারীরাও এই মামলার পক্ষভুক্ত।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent