
শিশুরা ঢু মারে এমন মিডিয়া প্ল্যাটফরম ট্রলিংয়ে অনলাইন অপরাধীরা ক্রমেই কার্যকর হয়ে উঠছে। এর ফলে পুলিশের কাছে মামলা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা। এক সময় তিনি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার আরসিএমপি ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন ইউনিটে কাজ করেছেন।
উপাত্ত বলছে, কোভিড-১৯ এর সময় শিশুরা যখন অনলাইনে বেশি সময় কাটাত সেই সময় এ সমস্যা বেড়ে যায়। কিন্তু পুলিশের ধারণা সত্ত্বেও লকডাউনের অবসানের পরও অনলাইনে শিশু নিপীড়নের হার কমেনি। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এ হার প্রায় চারগুণ হয়েছে।
শিশু নিপীড়ন থাকবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন কনস্টেবল সোলানা পেয়ার। একই সঙ্গে পুলিশ ও অপরাধীদের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও গতি পেয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রযুক্তি আরও বেশি সহজলভ্য হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে শিশু ও তরুণরা অনলাইন প্ল্যাটফরম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে, যা অপরাধীদেরকে তাদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
পুলিশ বলছে, ২০২১ সালে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় শিশু নিপীড়নের ঘটনা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৬০০টি। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৬০০ এবং ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৯২০টি। জাতীয়ভাবেও ক্রমবর্ধমান এই প্রবণতা দেখঅ যাচ্ছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পুলিশকে জানানো অনলাইনে শিশুদের ওপর যৌন হয়রানির হার ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। পুলিশের উপাত্তও বলছে, এটা অব্যাহতভাবে বাড়ছে।
আরসিএমপির ন্যাশনাল চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন ক্রাইম সেন্টার জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত তারা এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬২টি। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় সংখ্যাটি ১৫ শতাংশ বেশি।
পেয়ার বিষয়টির ব্যাখ্যা করে বলেন, অনলাইনে শিশুদের ওপর যৌন হয়রানির মধ্যে রয়েছে সেক্সটরশন, শিশুদের প্রলুব্ধ করা এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক ছবি তোলা ও তা বিতরণ করা। এ ধরনের অভিযোগ কমতে দেখছি না আমরা। আমরা কেবলই বাড়তে দেখছি। এর কারণ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার এবং শিশুরা আগেভাগেই অনলাইনে ঢুকে পড়ছে এবং এটা স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠছে। এর ফলে অপরাধীদের সামনে শিশুদের সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
