
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নারী চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য কানাডায় আসার কথা ভাবছেন। সেদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক দৃশ্যপটের কারণে এই চিন্তা-ভাবনা করছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সাম্প্রতিক এক পোস্টে ডা. কীর্তি প্যাটেল লিখেন, অন্টারিওতে কেউ কি খ-কালীন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ খুঁজছেন?
তিনি বলেন, এই প্রথম এত সক্রিয়ভাবে কানাডায় যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে নারী ও নারী চিকিৎসকদের জন্য এখন আতঙ্কের সময়।
এ প্রসঙ্গে লুইজিয়ানার এক কম বয়সী নারীর জন্য গর্ভপাতের ওষুধ মিফেপ্রিস্টন ব্যবস্থাপত্রে লেখার কারণে নিউ ইয়র্কের এক চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে টেক্সাস অবৈধ গর্ভপাতে সহায়তা করার জন্য কয়েকজন চিকিৎসকদের জন্য ৯৯ বছরের কারাদ- চালু করেছে।
প্যাটেল বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় একটি ডেমোক্রেটিক অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। তবে অঙ্গরাজ্যটির নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, কুইবেকের একটি উইমেন’স হেলথ ক্লিনিকের সঙ্গে তার কথাবার্তা চলছে। পাশাপাশি অন্টারিওর চিকিৎসক নিয়োগাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনি।
কানাডার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্যাটেল বলেন, দেশটির গর্ভপাতের অধিকার, কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র আইন এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবায় তিনি মুগ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের জীবনকাল ছোট। সেখানে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহারও বেশি। এবং আমরা জানি যে, কানাডিয়ানদের স্বাস্থ্য ভালো এবং আয়ুষ্কালও দীর্ঘ।
ন্যাশভিলেনর প্যাথোলজিস্ট ডা. জয়িস জনসনও জীবনে প্রথমবারের মতো কানাডায় চাকরি খোঁজার কথা ভাবছেন। সিটিভি নিউজকে তিনি বলেন, ভবিষ্যত নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। আমাদের জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী। হঠাৎ করেই আমরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছি। এটা ভয়ঙ্কর।
৬৬ বছর বয়সী জয়িস জনসন বলেন, সন্তান ও নাতী-নাতনীদের ছেড়ে যেতে প্রথমে দ্বিধা হচ্ছিল। কিন্তু বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য তহবিলের ক্ষেত্রে নির্বাহী সিদ্ধান্ত এবং সেবা ও গবেষণায় তহবিল কমানো বন্ধে আদালতের রুলিংয়ের মধ্যে টানাপড়েন উদ্বেগজনক। আগামী সপ্তাহ বা মাসেই আমরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে যাচ্ছি। আমার কিছু সাবেক রেসিডেন্ট রয়েছেন, যারা কানাডায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তারা সেখানে কাজটাকে খুবই ভালোবাসেন।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
