আইডেনটিটি নির্ধারণ জরুরী

আমার পক্ষে অন্তত এটি কখনোই সম্ভব নয় যেআমি মুক্তিযুদ্ধকেও সমর্থন করবো আবার একই সাথে স্বাধীনতা বিরোধীদেরকেও সমর্থন করবো

আমার পক্ষে অন্তত এটি কখনোই সম্ভব নয় যে,আমি মুক্তিযুদ্ধকেও সমর্থন করবো, আবার একই সাথে স্বাধীনতা বিরোধীদেরকেও সমর্থন করবো। দুটি এক সাথে যায় না এবং তা খুবই স্ববিরোধী অবস্থান, প্রচন্ড হিপোক্রেসি।

আজকাল অনেকের মধ্যেই দেখি, একদিকে মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশে স্বাধীনতার পক্ষেও থাকে, আবার অন্যদিকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির পক্ষেও থাকে।এই আইডেন্টিটি ক্রাইসিস আমি অনেকের মধ্যেই দেখি। আসলে বাংলাদেশের বিষয়ে আমার ধারণা তাদের কনসেপ্ট ক্লিয়ার না।

- Advertisement -

তারা হয়ত ভাবে, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যালেন্স করে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ কিন্তু তা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়, বরং নিজের সাথে নিজের প্রতারণা করার সামিল।

এই সমস্যাটা আসলে তৈরি করেছে বাংলাদেশের প্রধান দলগুলিই।

২০০১ সালে বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী জামাতের সাথে জোট বাঁধে এবং জয়ী হবার পর তারা জামাতের বেশ কয়জন নেতাকে মন্ত্রী বানায়।

অথচ এই দলটির মধ্যে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা আছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তার দল বিএনপি একদিকে বাংলাদেশের  মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করে, আবার অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী যুদ্ধাপরাধী দল জামাতকেও সমর্থন করে। এই বৈপরীত্য, স্ববিরোধীতার রাজনীতি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছে।

এর থেকে আওয়ামী লীগও মুক্ত নয়। তারাও ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক  সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সময় জামাতের সাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছিল। যদিও আওয়ামী লীগ জামাতের সাথে জোটবদ্ধ ছিল না কিন্তু যুগপৎ আন্দোলন করেছিল। তারা তখন কখনোই বলে নাই, আমরা জামাতকে এই আন্দোলনে দেখতে চাই না। জামাত যদি আন্দোলন করে সেটি তাদের ব্যাপার কিন্তু আমরা এই আন্দোলন আমাদের সমমনা দলগুলিকে সাথে নিয়ে করবো,এর মধ্যে জামাত নাই,জামাতের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই। আওয়ামী লীগ  বরং সেই আন্দোলনের সময় একটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছিল। যেটি ঠিক ছিল না।

এরপর আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘ ১৫ বছর জামাতের সাথে এবং অন্যান্য স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সাথে এক ধরনের আপোষ করে গেছে। তারা বাহাত্তুরের সংবিধানেও পুরোপুরি ফিরে না গিয়ে আপোষ করেছে। মূল সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। সেটিতে তারা ফিরে যায়নি কেন? মূল সংবিধানে ফিরে গেলেই তো জামাত রাজনীতি করতে পারতো না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই পথে না গিয়ে ব্যালেন্স করতে চেয়েছিল।

বিএনপি, আওয়ামী লীগ একই রোল প্লে করেছে। দুই দলই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হয়েও স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথেও সখ্যতা রেখেছিল, দুই দলই কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

কিন্তু এটি তো স্ব-বিরোধীতা।

মুক্তিযুদ্ধকেও ধারন করবেন, আবার অন্য দিকে স্বাধীনতা বিরোধীদেরকেও ধারণ করবেন।সেটি তো হয় না। অথচ এই দ্বিচারিতাই আমরা দীর্ঘ দিন বয়ে চলেছি।

এই স্ব-বিরোধীতা  জনগনের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়েছ।

সেই কারনেই আজ আমরা দেখছি, আমরা মুক্তিযুদ্ধকেও সমর্থন করি, আবার স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ড.ইউনুসের অন্তবর্তীকালীন সরকারকেও সমর্থন করি। আমরা একদিকে মুক্তিযুদ্ধের নানা অনুষ্ঠান করছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের নানা অনুষ্ঠান করছি,সেগুলোতে অংশগ্রহণও করছি,আবার অন্যদিকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির প্রতিভূ ড.ইউনুসকে সমর্থন করছি, তার গুনগান গাচ্ছি। এটি চরম স্ববিরোধী অবস্থান।

নাকি আপনি মনে করেন না ড.ইউনুস স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি? তার পক্ষে যুক্তি কই? প্রমান কই?

আপনি মুক্তিযুদ্ধও সমর্থন  করবেন, আবার স্বাধীনতা বিরোধীতাকারী শক্তির সাথেও থাকবেন।

একটু ভেবে দেখবেন আপনার অবস্থান কি স্ববিরোধী নয়?

আপনার আইডেন্টিটিকে ঠিক মতো establish করুন।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent