
নিজেদের কাজের ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত সৃষ্টিশীল শিল্পের প্রতি কিছুটা সমর্থন ছুড়ে দিয়েছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রদূত জিওফ্রি হিন্টন। শিল্পীদের কাজের ভিত্তিতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তাদের মডেলকে যেভাবে প্রশিক্ষণ এবং এরপর ওই মূল কন্টেন্টের ভিত্তিতে ব্যবহারকারীদের নতুন বিষয় তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে তা নিয়ে বুধবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ কানাডিয়ান এই কম্পিউটার বিজ্ঞানী।
টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ডিসকভারিএক্স প্রযুক্তি সম্মেলনের মঞ্চে হিন্টন বলেন, এসব উৎপন্ন করতে তাদের তৈরি কন্টেন্ট এআই ব্যবহার করছে। এবং তারা এর বিনিময়ে কিছু পাচ্ছেন কিনা আমি নিশ্চিত নই। আমি মনে করি, এই প্রশিক্ষণ উপাত্ত পাওয়ার বিনিময়ে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উচিত আরও বেশি অর্থ পরিশোধ করা।
হিন্টন তার মন্তব্যে এমন একটি বিষয়কে স্পর্শ করেছেন, ২০২২ সাএলর নভেম্বরে ওপেন এআই তাদের চ্যাটজিপিটি প্রকাশ করার পর থেকেই সৃষ্টিশীল শিল্প এ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে আসছে।
অনলাইনে বা ফ্রি ডেটাবেইজে পাওয়া যায় এমন কন্টেন্টের ওপর এআই কোম্পানিগুলো যে তাদের মডেলকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সংগীত শিল্পী থেকে বইয়ের প্রকাশক ও গণমাধ্যম কোম্পানি সবাই তার প্রমাণ পেয়েছেন। এই কোম্পানিগুলো পরবর্তীতে লোকজনকে মূল কন্টেন্টের ওপর ভিত্তি করে নতুন কাজ বের করে আনতে তাদের সফটওয়্যার ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে।
এই চর্চা নিয়ে হিন্টন খুব একটা খুশি নন। ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না থাকায় তিনি কেবল সৃষ্টিশীল শিল্পের ওপর এআইয়ের এই প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্নই নন, একইসঙ্গে তিনি এটাও মনে করেন যে, নীতিনির্ধারকরা এ ব্যাপারে কিছু করছেণ না।
হিন্টন বলেন, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে সরকার সৃষ্টিশীল শিল্পকে রক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী নয় বলে মনে হচ্ছে।
নীতি সহায়তার অভাব সৃষ্টিশীল কোম্পানিগুলো ও শিল্পীদের বিষয়টি নিজের হাতে তুলে নিতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে এআই জায়ান্টদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হচ্ছে।
দ্য কানাডিয়ান প্রেস, টরস্টার, গ্লোব অ্যান্ড মেইল, পোস্টমিডিয়া এবং সিবিসি/রেডিও-কানাডার একটি জোট গত নভেম্বরে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের দাবি, সান ফ্রান্সিস্কোভিত্তিক কোম্পানিটি তাদের কপিরাইট লঙ্ঘন করেছে। প্রতি কাজের বিপরীতে তারা ২০ হাজার ডলার করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
