আমার রবীন্দ্রনাথ

২৫ বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরর ১৬০তম জন্মবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি

আমার রবীন্দ্রনাথের সাথে আমার পরিচয় অনেক ছোটবেলায়। আপা গান শিখতো। আমি তখন কেবল কথা বলতে শিখেছি , হারমোনিয়ামের পাশে বসে নাকি গাইতাম, “ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু।” আর মায়ের কাছে সেই ছোট বেলা থেকে, ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতা শুনতে শুনতে মুখস্ত হয়ে গেছে।

আমাদের ছোটবেলার অবসর মানে বই পড়া।আর আপু বা লতা’পা, কখনো রোজি বা রুমার সাথে গীতবিতান এর পাতার পর পাতা উল্টানো।”কান্নাহাসির দোল দোলানো”থেকে শুরু করে, সুরে, বেসুরে, নিজস্ব সুর দিয়ে একের পর এক গান গেয়ে যাওয়া। ভাইজানও গান গাইতো,’বড় আশা করে এসেছিগো কাছে ডেকে লও,ফিরায়ও না জননী।’

- Advertisement -

২৫ বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরর ১৬০তম জন্মবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। অনেকদিন পর বসলে যা হয়, গলা ধরে আসে। তবু রবীন্দ্র সংগীত গাইলে এখনো সোজা শৈশব, কৈশোর এ যেভাবে চলে যেতে পারি, আর কিছুতেই তা হয়না।লালমনিরহাটের গোকুলদা বলেছিলেন,রবীন্দ্র সংগীত ছাড়া অন্য গান গাইবি না।

সুর আর গন্ধের অদ্ভুত টান আছে। মূহুর্তে কোথা থেকে কোথায় যে নিয়ে যায়। গান গাওয়া হয়না বলা যায় বহু বছর। অটোয়াতে বন্ধুরা মিলে রবীন্দ্র জয়ন্তী করেছি।কিযে আনন্দ হতো সেইসব রিহার্সেল এ।আসগর ভাই দেশে চলে যাবার পর আর তবলার সাথে বসা হয়নি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিল সেইজন,যাকে রাশীকের বাবা হিংসা করতো। বলতে, কেনো যে এত ভালোবাসো তাকে!বলতাম, এমন বড় মানুষ অথচ চোখ ভর্তি দুঃখভরা,দুখী মানুষ আর দেখিনি।

সারাজীবন ধরে, গীতবিতান আমার কাছে শ্রেষ্ট বন্ধুর মত হাতের কাছে, প্রানের কাছে থেকেছে।

আজ কবিগুরুর জন্মদিনে বহুদিন পর গান গাইতে বসে ভীষন এলোমেলো হলাম। ২৫/৩০ টা গান না গেয়ে কখনো থামতাম না। আজ ৬/৭ টা গাইতেই অনভ্যাসে গলা ধরে এলো।

‘সখী ভাবনা কাহারে বলে’

আর ‘এই উদাসী হাওয়ার পথে পথে মুকুলগুলি ঝরে’

দু’টো গান পোস্ট করলাম।

দরজার দিকে বারবার চোখ যাচ্ছিল।

আমার গান শোনার মানুষটাও আজ গানের ওপারে।

 

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Read More

Recent