পঞ্চায়েত দেখার অনুভব

পঞ্চায়েত দেখার অনুভব

আমার হেডলাইনটাই আলাদা। সব সময় তো ছবি দেখার প্রতিক্রিয়া লিখি। কিন্তু পঞ্চায়েত তো নিজের মনে হয়,সব চরিত্র আমার চেনা,পরিবারের যেন,আমি ও ফুলেরা গ্রামে থাকি।

আপনাদের ও কি এমন লাগে?

- Advertisement -

সচিবজি,প্রধাণজি,মঞ্জু ম্যাডাম,রিংকি,প্রহ্লাদ চা,বিকাশ,ক্রান্তি ম্যাডাম,বিধায়ক,আর আমার প্রিয় বানরাখস আর বিনোদ,এরা সবাই আমাদের খুব পরিচিত না?

বানরাখস আর বিনোদকে পছন্দ তাদের কেরেক্টার গ্রাফের জন্য। আর অভিনয়!

সিজন ৩ শেষ হয় সে রকম উত্তেজনার পারদ চরমে রেখে। বোঝাই যাচ্ছিল,এবার রাজনীতি, নির্বাচন ঢুকে পড়বে। তবে আশা করিনি,পুরোটাই শুধু ই রাজনীতি নিয়ে হবে।

পঞ্চায়েত বলতে আমরা ধরে নেই,হালকা হাসির গল্প হবে,কয়েকটা পর্বে শেষ হবে। আমরা মনে একটা ভালো লাগার রেশ ধরেই আরামে ঘুমোবো।

কেন?

আমরা এমন কেন ধরে নিয়েছি?

যে কোনো গল্পে যদি সেটা উপন্যাস হয় বা সিরিজ,তাহলে শুরুর দিকে সব চরিত্রের বৈশিষ্ট্য,এলাকার পরিস্থিতি সবকিছুকে বোঝাবে। সেটাতে যেহেতু গ্রামের মানুষ চরিত্র,সহজ সরল দিকটা হাস্যরসের মাধ্যমেই আসবে। যেমন সিসি ক্যামেরায় ছাগল চুরি দেখা,ক্রান্তি দেবীর স্যান্ডেল চুরি কিংবা বিনোদের সেই টয়লেটের ঘটনা।

আসলে সবকিছুই বাস্তবের দিকেই এগোচ্ছিল। সেই কারণেই প্রহ্লাদ চা সন্তান হারিয়েছেন।

এ পর্বের মূল রহস্য প্রধাণজিকে কে গুলি করেছিল? আর ইলেকশনে কে জিতবে? সচিব কি পরীক্ষায় পাশ করবেন? রিংকি আর সচিবের কি প্রেম হবে?

এবার জানি অনেকেই পছন্দ করবেন না,বা করছেন না এই সিজন। আমার খুব ভালো লেগেছে। ওই যে কাহিনি যে সিরিয়াস দিকে যাবে সেটার আভাস কিন্তু লাস্ট সিজনের শেষেই ছিল।

গ্রাম্য রাজনীতি বা যে কোনো রাজনীতি যে কতটা জটিল আর সাধারণ সরল মানুষকেও কতটা কুটিল বানিয়ে দিতে পারে,আর গুটি হিসেবে সাধারণ মানুষের জ্ঞ্যানের অভাবকে কাজে লাগাতে পারে,এই সিজন সে কথা বলে।

প্রথম দুই পর্ব খুব ধীর গতির,আস্তে আস্তে গতি নেয় চিত্রনাট্য। নতুন চরিত্র আসে। পরবর্তী সিজনে এ চরিত্র মূল হয়ে যাবে,বোঝাই যাচ্ছে।

এর মাঝেই প্রতি পর্বেই কিছু না কিছু আছে,যা দেখে আপনি হাসতেই থাকবেন,আবার কাঁদবেন। মন খারাপ করবেন।

কেন করছেন? এরা আপন বলেই তো?

সচিব জি মানে জিতু ভাইয়া- রিংকির প্রেম জমে উঠেছে। এত কিউট সব মোমেন্ট আছে। দুজনের অভিনয় খুব সুন্দর।

প্রধাণজি মানে রঘুবীর যাদব তো লিজেন্ড। ওনার কনফিডেন্স,তাতে আঘাত,ভেঙে যাওয়া-কী শক্তিশালী অভিনেতা।

মঞ্জু ম্যাডাম,নীনা গুপ্তা,ইস্পাত কঠিন। যা ই হোক,উনি স্থির।

প্রহ্লাদ চা,ফয়সাল মালিক ওনার চোখ কথা বলে। শুধু একদিকে তাকিয়ে থেকেই কত রকম বেদনা প্রকাশ করতে পারেন।

এ সিজনে বিকাশ, চন্দন রায় এত সপ্রতিভ। তার স্ত্রীও একদম গ্রামের হিসেবী বউ যেন!

বিধায়ক নিষ্ঠুর। তিনি এবং নতুন চরিত্র যে গভীর জলের মাছ,সে পরের সিজনে সবাই বুঝতে পারবেন।

এবার আসি ভিলেন বানরাখস, দুর্গেশ কুমারের অভিনয়। আমার সবচেয়ে প্রিয়। ওনার অভিনয়ের জন্যেই। কতটা সফল চরিত্রায়ণে ভাবুন তো,সবাই দেখলেই রেগে যাচ্ছেন!

আর ক্রান্তি দেবী,সুনিতা রাজওয়ার,এ পর্বে উনি চরম কুটিল,নোংরা ভাষী। গ্রাম্য রাজনীতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেলে মানুষের কাণ্ডজ্ঞান থাকে না যেমন! অসাধারণ!

বানরাখসের এসিস্ট্যান্ট ( সরি,ওনার মূল নাম জানি না) হাসিয়ে ছেড়েছেন।

এবার আসি এই সিরিজের মূল সারপ্রাইজে। বিনোদ,অশোক পাঠক। গ্রামের একদম সহজ সরল মানুষটা,যে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ই বোঝে না,তার ও কী আত্মসম্মান। পুরো সিরিজ জুড়ে এবার এত হইচই,পুরো চিত্রনাট্যকে নিস্তব্ধতায় ঢেকে দেয়,একটা ডায়ালগ,আমি গরীব,বিশ্বাসঘাতক নই।

শেষ দৃশ্যতেও তার কান্না বলুন,আর আনন্দ,আহা! শার্ট এর সাথে প্যান্ট পরতে যে অনভ্যস্ততা,সেটাও কী দারুণ ভাবে বুঝিয়েছেন।

অশোক পাঠক,একজন অভিনেতা হিসেবে এই সিজন আপনার। আপনাকে আরো নানা রকম চরিত্রে দেখতে চাই। জানেন,এমন কাজ দেখলে একজন দর্শক হিসেবে কী আনন্দ হয়। শেষটায় আপনার কান্না দেখে আমিও কেঁদেছি।

টি ভি এফ, অভিবাদন,নিজেদের ধারা বজায় রাখার জন্য।

স্পয়লার এলার্ট: ( না দেখলে পড়বেন না)

আমার মনে হয়,প্রধাণজি বুঝে গেছেন,উনি সাংসদ আর বিধায়কের গুটি ছিলেন মাত্র। এবং তিনি জানতেন,কার প্ল্যানে গুলি খেয়েছেন তিনি। সেটাও ভিলেজ পলিটিক্স।

এবার ফেরার জন্যে মানুষের জন্য কাজ করবেন। আর গ্রামের মানুষ ও বুঝবে,তারা কী করবে পরে। রাজনীতি! পঞ্চায়েতেও তীব্র ভাবে ঢুকে গেল,অস্ত্রের ঝনঝনানিতে নয়,সেই লেভেলের প্ল্যান দিয়েই। প্রধাণজিকে বোকা বানিয়েই!

তাই তিনি বলেছেন,বিশ্বাসঘাতক।

তবে উনি প্রধাণজি। উনি ফিরবেন। আমরা না হয় সিজন ৫ এর অপেক্ষা করি।

- Advertisement -

Read More

Recent