
ভাইজান/ভাবী মাত্র তিনদিনের জন্য বেড়াতে এসে ফিরে গেছে নিউ জার্সিতে।আমার বাসাটা বিশাল শূন্যতায় ডুবে আছে। মনটা কেমন যেনো পাখির মত হয়ে গেছে।পাখি নাকি পাখির পালকের মত উড়ে বেড়াই এ ঘর, ও ঘর!
“কেনো অন্তহীন বিরহীরই গান ,মোর কন্ঠ শুধু সেঁধে যায়।কেনো একেলা এ আঁধারে বসে,সারাবেলা বয়ে যায়।“ কতবার যে শুনি। কত অজস্রবার!
বুকের ভিতরের সব দুঃখ,কষ্ট ঝরে পড়ে যায়।
আজ সকালে রাইয়ানকে কাজে নামিয়ে রুমি ভাবী সহ প্রিয় নদীর পাশে হাঁটতে গেলাম। গত শুক্রবারে ভাইজান/ভাবীকে নিয়ে গেছিলাম। মনটা কেমন করে উঠলো!
কত রকম পালতোলা নৌকা ভাসছিল নদীতে।
সুইমিংপুলের পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকলাম।
২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।
নদীর ধারে হাঁটতে হাঁটতে কত কথা মনেহয়!
কত স্মৃতির মালা গাঁথা সময়। কতদিন মনেহয় পিছন থেকে সে এসে চমকে দেবে!
জীবনে যে কাছের মানুষটা হারিয়ে গেছে। হাতের মুঠোর সেই হাত!
এই হারানোর কষ্ট, এই বেদনা গলার ভিতর দলা পাকাতে থাকে!
যে যায় সে ফেরে না!
তবু অন্তহীন এক অপেক্ষায় জীবন বয়ে যায়!
“হেঁটে গেছি আমি আয়ুরেখা ধরে
সাড়া দিতে এত দেরী হয়ে গেল বলে
জন্ম মৃত্যু ভেঙে
ভোরবেলা তুমি আলো হয়ে ফোটো
আমি জেগে আছি এসো
যদি কোনোদিন তুমি দু’হাত দিয়ে ঝিনুক কোড়াও
নেই আমি সেই অল্প ভাঙা গল্পগুলোয়
কার সাথে বল শব্দ ছুঁড়ে ফিরবো বাড়ি মাঝরাতে?
আমি তোমার কথা বলবো কাকে?”
অনুপম রায় গাইছে টিভিতে…..
“আহা জীবন!
আহারে জীবন”
তবুও জীবন
ভালোবাসি……
অটোয়া, কানাডা

