ফুটবলের চারুশিল্পী

ম্যারাডোনা আর ফিরবেন না তাঁর না ফেরার দেশে চলে যাওয়াটা মানতে পারছেনা সম্মোহিত ভক্তকুল

শিল্পীদের বুঝি এমনই হতে হয়! এলেবেলে অনিয়ন্ত্রিত জীবন! অথচ কী প্রখর শৈল্পিক মেধা! হাতে, পায়ে কিংবা কন্ঠে কী যে যাদু! যাদুর মোহন বাঁশীতে মুগ্ধ বিশ্ব। অতঃপর একদিন… শিল্পীর যাপিত এলেবেলে বিশৃঙ্খল জীবন…. মহাশিল্পের মহান স্রষ্টা হয়তো আর সইতে পারেন না। তিনি শিল্পীকে ডেকে পাঠান মহাকালের নিঃসীম ঠিকানায়। অজানা পোস্টাল কোডের এ ঠিকানা থেকে কেউ আর ফিরে আসেনা।

ম্যারাডোনা আর ফিরবেন না। তাঁর না ফেরার দেশে চলে যাওয়াটা মানতে পারছেনা সম্মোহিত ভক্তকুল। কীই বা এমন বয়স হয়েছিলো মহান এ ফুটবল শিল্পীর! ষাট কি এযুগে ভেঙে পড়ার মতো বয়স? এ বয়সে মানুষ গলফ কোর্সে প্রথম নাম লেখায়। রেসিং কার চালানো শেখে। বৌ নিয়ে হাওয়াই দ্বীপে রেসিপ্রোকেট হানিমুন কাটায়। অনেক নতুনের শুরু এ বয়সটায়। অথচ লক্ষকোটি মানুষকে কাঁদিয়ে পৃথিবী নামের খেলার মাঠ থেকেই বিদায় নিলেন তিনি!

- Advertisement -

আসলে মাঠ ছেড়েছিলেন সেই চুরানব্বুইতেই। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে। তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামার আগে ডোপ টেস্টে বাদ পড়েন তিনি। ড্রাগ ধরা পড়ে শরীরে। প্রথম ম্যাচে দূর্দান্ত খেলে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেন গ্রীস দলকে। দ্বিতীয় ম্যাচেও নাইজেরিয়ার সাথে ২-১ গোলে জেতে তাঁর দল। তৃতীয় ম্যাচে ম্যারাডোনাবিহীন আর্জেন্টিনা ০-২ গোলে হেরে যায় স্টয়োচকভের বুলগেরিয়ার কাছে। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলেও ম্যারাডোনা বিরহে ভগ্ন মনোরথের আর্জেন্টিনা ২-৩ গোলে রোমানিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

ফুটবল বিশ্বে আলোর ঝলকানি দিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৭৮ বিশ্বকাপের বিন্দুমাত্র স্মৃতি আমার মাথায় নাই। তবে মনে পড়ে ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপের কথা। ইতালির জয়জয়কার সেবছর। পাওলো রসি সুপার হিরো। পাড়ার বড়বোনেরা ফিসফিসিয়ে রসির সৌন্দর্য নিয়ে কথা বলে। ইতালির সব খেলোয়াড়েরা তাঁদের কাছে রোমান দেবতা কিউপিড। স্বপ্নের রাজপুত্তুর। আমার সরল শিশু মন এসব জটিল রূপতত্ত্ব বোঝেনা। মাথায় কেবল জিকো সক্রেটিস ম্যারাডোনা ঘোরে। প্রথম দুজন প্রতিপক্ষ ব্রাজিল দলের হলেও ওঁরা আমার চাইল্ডহুড হিরো। সক্রেটিসকে আমার সর্বকালের সেরা পরিচ্ছন্ন মিডফিল্ডার মনে হয়।

বিরাশি বিশ্বকাপে আমি দর্শক সারির শিশু শিল্পী। ইতালি প্রেমিক বড় আপারা শিশু শিল্পী হিসাবে আমি আর্জেন্টিনা নাকি ব্রাজিল সাপোর্টার তা নিয়ে মাথা ঘামালেন না। কিন্তু মাথা ঘামালেন পাড়ার বড় দাদারা। দলবেঁধে সবাই ব্রাজিলের সাপোর্টার। ক্লাশ ফাইভে বৃত্তি পরীক্ষার সময় মুখস্ত করেছিলো একটি নাম। জগৎ সেরা ফুটবলার এডসন আরান্তেস দ্যো নাসিমেন্তো। হ্যাঁ, এটি মহান ফুটবলার পেলের পুরো নাম। ব্যাস… এই গল্প পড়তে পড়তে সবাই ব্রাজিলের ফ্যান। এদিকে আমি জ্ঞান হবার পর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দেখছি আর্জেন্টিনাকে। তাই আমার কাছে মনে হতো আর্জেন্টিনাই শ্রেষ্ঠ। পাড়ার দুই বড় ভাই পিয়াল এবং পলাশ। আমার চেয়ে ছয় ক্লাশ উপরে পড়ে। একটু ব্যাতিক্রম সমর্থক।। বললেন, আর্জেন্টিনায় ইয়াং একটা প্লেয়ার আছে। নাম ম্যারাডোনা। দেখবি, কি যাদু দেখায়।

না… ম্যারাডোনা সেবার ম্যারাডোনার যাদু দেখাতে পারেননি। তবে কয়েকটা ঝলক দেখিয়েছিলেন পায়ে। বাড়ি বাড়ি তখন টিভি ছিলোনা। পাড়ায় এক দুটো অভিজাত ঘরে তা শোভা পেতো। টিভিওয়ালা বাড়িতে একটা বড় এন্টেনা থাকতো। সবাই আঙুল দেখিয়ে বলতো ও বাড়িতে টিভি আছে। আর টিভি চ্যানেলতো একটাই। বিটিভি বা বাংলাদেশ টেলিভিশন। বিটিভির ৬ নম্বর চ্যানেল বলে আরেকটি অনিয়মিত চ্যানেল ছিলো। খেলা হতো ৯ নম্বর চ্যানেলে।

বেছে বেছে কয়েকটি খেলা বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের সহায়তায় দেখানো হতো। সৌভাগ্যক্রমে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচটি দেখানো হয়েছিলো। দুর্ভাগ্যক্রমে ঐ খেলাতেই ম্যারাডোনা লালকার্ড পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। ব্রাজিলের জোয়াও বাতিস্তাকে ফাউল করায় রেফারি লাল কার্ড দেখান। জার্সির বাঁ আস্তিনে চোখ মুছতে মুছতে শান্তভাবে মাঠ ছেড়েছিলেন ম্যারাডোনা। কিন্তু আমি ছোখ মুছে ক্ষান্ত থাকতে পারেনি। ডুকরে কেঁদে উঠেছিলাম। ভোররাতে ফোঁপাতে ফোঁপাতে ঘুমুতে গিয়েছিলাম। ফুটবলের জন্য সেটাই ছিল প্রথম কান্না।

এরপর থেকে ম্যারাডোনার প্রতি ভালোবাসা আরো তীব্র হতে থেকে। হোয়াইট পেলে খ্যাত জিকো যখন সবার প্রিয় খেলোয়াড় আমি তখন ম্যারাডোনার অন্ধ ভক্ত। স্পেন বিশ্বকাপের পর বার্সায় ট্রান্সফার হন ম্যারাডোনা। খবরের কাগজে তাই কেবল বার্সেলোনার খোঁজ রাখতাম। ক্রীড়া জগতের প্রতিটা সংখ্যা শ্যামলীর সদ্য নির্মিত পত্রিকা স্ট্যান্ডের (ঢাকা শিশু হাসপাতাল বাস স্ট্যান্ড) সামনে দাঁড়িয়ে পড়তাম। কেনার সামর্থ্য ছিলোনা।

ঢাকাই ফুটবলে সে বছর (৮২) মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন হয়। মোহামেডানের গোঁড়া সমর্থক পান্না ভাইও আমার সাথে দাঁড়িয়ে ক্রীড়াজগতে বুঁদ হয়ে থাকতো। আমি তাঁর সাথে আবাহনীর চুন্নু, আসলাম, জনি, বাবুলের ছবি খুঁজতাম।

চুরাশিতে ম্যারাডোনা ন্যাপোলি ক্লাবে যোগ দেয়ায় ভয় পেয়েছিলাম ক্যারিয়ার বুঝি গেলো। ঐ বয়সে বিটিভির বদৌলতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, চেলসির বাইরে বার্সিলোনা, রিয়্যাল মাদ্রিদ আর জুভেন্টাস ছাড়া কোনো ক্লাব চিনিনা। নাম না জানা নেপোলিতে খেলা মানে ডিমোশন মনে করেছিলাম। পরের ইতিহাস সবার জানা। মাটি থেকে তুলে এনে ম্যারাডোনা উয়েফা কাপ চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন নেপোলিকে। একক কৃতিত্ত্বে।

মেক্সিকো বিশ্বকাপ’ ৮৬। বিশ্বকাপের ইতিহাসটাকেই যেনো পাল্টে দিলো। ঐশ্বরিক শক্তি নিয়ে মর্তের মাঠে নেমে এলো এক ফুটবলার! মাঝমাঠে যাঁর পায়ে বল এলে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স কেঁপে ওঠে। একই মাঠে তখন মিশেল প্লাতিনি, গ্যারি লিনেকার, সক্রেটিস, ক্যারেকা, রুডি ভয়েলারদের দাপট।

তবু গোলকিপারের বুক ধরাশ করে ওঠে ম্যারাডোনার পায়ে বল গেলে। ইংল্যান্ডের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে দুদুটো ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। ম্যারাডোনা দুটি গোল করেন এ খেলায়। যতোদিন ফুটবল বেঁচে থাকবে, ততোদিন প্রথম গোলটি নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকবে। ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে খ্যাত সেই গোল। রেফারি, দর্শক, টিভি ক্যামেরা, প্রায়ই সবই ফাঁকি দিয়ে তিনি সেটি করেছিলেন। সেসময়কার বিশ্বসেরা গোলকিপার পিটার শিল্টন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই দুৰ্ভাগ্যজনক দৃশ্য দেখেছিলেন।

দ্বিতীয় গোলটি দর্শক ভোটে এখনো বিশ্বশ্রেষ্ঠ গোল। বর্তমান যুগেও ইউটিউবে সর্বাধিক দর্শনের (ভিউ) গোল। মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে মিডফিল্ড ও ডিফেন্সের সাত সাতজন প্লেয়ারকে কাটিয়ে গোলকীপার শিল্টনকে বোকা বানিয়ে ইতিহাসের সেরা গোলটি করেন তিনি। কোটি কোটি মানুষকে ফুটবল শিল্পের শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মটি তিনি উপহার দেন। মধ্য মাঠ থেকে গোল পোস্ট পর্যন্ত বল টেনে নেয়ার প্রতিটি মুহূর্ত ছিলো তুলির আঁচড়ে আঁকা মহান শিল্পকর্ম। ফুটবলকে তিনি মাঠ থেকে নিয়ে গেলেন চারুকলা ইনস্টিটিউটে। এরচে’ বড় ফুটবল শিল্পকলা আর কি হতে পারে?

এলো ইটালিয়া বিশ্বকাপ’৯০। ইতালিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে আফ্রিকান পাওয়ার ফুটবলের নামে ক্যামেরুন ডিফেন্ডারদের শারীরিক আক্রমনের শিকার হন ম্যারাডোনা। দল হেরে যায় ০-১ গোলে। তবু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে প্রবল প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে ১-০’তে নকআউট করে মুখোমুখি হয় যুগোস্লাভিয়ার। এরপর সেমিতে উঠে সম্মুখ সমরে স্বাগতিক ইতালী। তুমুল উত্তেজনাকর এ খেলায় টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালে চলে যায় ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। ফাইনালের সময় কি হয়েছিলো সবার জানা। রেফারী কোডেসালের ভূমিকা সেদিন ফুটবলকে লজ্জা দিয়েছে! টাইব্রেকারে হেরে গিয়ে রানার আপ ট্রফি নিয়ে ঘরে ফেরে ম্যারাডোনা। একলা পায়ে.. একলা কাঁধে.. রানার আপ ট্রফিও কম কিছু নয়। তবু ইতিহাসের এই অধ্যায়টা অনেকের কাছে বিস্মৃত। একক কৃতিত্বে একটি দল পরপর দুবার ফাইনাল খেলে….. ম্যারাডোনা বলেই সেটি সম্ভব!!

ফুটবল একক কোনো খেলা নয়। দলীয় খেলা। আর্জেন্টিনার সমালোচকদের প্রায়ই বলতে শোনা যেতো ম্যারাডোনা ছাড়া দলে তো কেউ নেই। এ দলকে সাপোর্ট করি কিভাবে? অভিযোগটা পুরো মিথ্যে নয়। এ অভিযোগই প্রমান করে ম্যারাডোনার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্ব। নেপোলি ক্লাবের ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। একজন খেলোয়াড় দশটা প্লেয়ার কাটিয়ে গোল করে দল জিতিয়ে আনেন আমার ফুটবল-দর্শক জীবনে আর কাউকে দেখিনি। মৃত্যুর পর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড’৮৬ দলের স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার টুইট বার্তায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, “যথাযথ তর্কসাপেক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনাই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার।” হি ইজ দ্য গ্রেটেস্ট! সিম্পলি গ্রেটেস্ট।

ফুটবল ইতিহাসের অপর মহান শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় পেলের সাথে ম্যারাডোনার প্রথম সাক্ষাৎটি ছিলো দেবদূত দর্শনের মতো। পরম বিস্মিত বালক ম্যারাডোনা পেলেকে দেখে চাঁদ হাতে পেয়েছিলেন। পেলে প্রায়ই ফুটবল টিপসের পাশাপাশি গীটার বাজিয়ে শোনাতেন ম্যারাডোনাকে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আর্জেন্টিনা ব্রাজিল একে অপরের ক্রীড়াশত্রু হওয়ায় দুজনের বাদানুবাদও হয়েছে বহুবার। কিন্তু পারস্পারিক স্নেহ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ছিলো অতি আপনজনের মতো। একে অপরের গালে কপালে চুম্বন পর্যন্ত করেছেন। তবে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দেননি। পেলে ম্যারাডোনার প্রতিযোগিতামূলক এ শিক্ষা আমাদের ব্যাক্তিগত জীবনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। লড়াকু মানুষদের মাহাত্ম্য এখানেই।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর পেলে তাঁর টুইট বার্তায় বলেন, What a sad news! I lost a great friend, world lost a legend. There is still much to be said, may God give strength to family members. One day, I hope we can play football together in the sky.

কিছুটা ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের ম্যারাডোনা মানুষ হিসেবে ছিলেন অতুলনীয়। শিশুর মতো সরল একটা অন্তর ছিল তাঁর। অথচ রাজনৈতিক চিন্তায় ছিলেন সাম্যবাদী দার্শনিক। চেগুয়েভারা আর ফিদেল ক্যাস্ট্রোর একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। শরীরে তাঁদের ট্যাটু এঁকে রেখেছিলেন।

ড্রাগের পৌনঃপুনিক ছোবল তাঁকে ক্ষতবিক্ষত করেছে বারংবার। পরিপূর্ণ সুস্থ হতে দেয়নি কখনো। শরীর অস্বাভাবিক ফুলে ওজন বেড়ে গিয়েছিলো মারাত্মক। প্রতিদিন টানা ২০ মিনিট ড্রিবলিং প্র্যাকটিস করেও ওজন কমাতে পারেননি। মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করেছিলো। হৃদপিণ্ডের সঞ্চালন ক্ষমতা কমে গিয়েছিলো। চিকিৎসা সেবার ত্রুটি কতোটুকু তা নিয়ে চলছে তদন্ত। তবে এটাই সত্য যে তিনি পৃথিবীতে নেই। কোটি মানুষের ভালোবাসা তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি।

যে ঈশ্বর তাঁকে শ্রেষ্ঠ ফুটবল শিল্পী বানিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন তাঁর কাছে তিনি ভালো থাকুন। পেলে যেমনটি বলেছেন, একদিন তাঁরা স্বর্গে গিয়ে একসাথে ফুটবল খেলবেন। তাই যেনো হয়। শোকসন্তপ্ত ফুটবল পাগল মানুষের এটুকুই প্রার্থনা।

হাসান জামান খান

হার্ট লেক, ব্র্যাম্পটন, অন্টারিও

- Advertisement -

Read More

Recent