
কানাডার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বিশ্বে “শান্তিরক্ষী” হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক নীতি ও পদক্ষেপে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন কানাডা কি সত্যিই বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনীতির প্রতীক, নাকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শত্রুতার আবহও তৈরি করছে?
ঐতিহাসিকভাবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণ, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা কানাডাকে এক ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। কেবল ২০২৪ সালেই বিদেশি সহায়তার জন্য প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে দেশটি, যার বড় অংশ গেছে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন প্রকল্পে। একই সঙ্গে শরণার্থী গ্রহণেও দেশটির ভূমিকা প্রশংসিত। গত বছর কানাডা আশ্রয় দিয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার শরণার্থীকে।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, এই মানবিক ভূমিকার পাশাপাশি কানাডার কূটনীতিতে এক ধরনের দ্বিমুখী অবস্থানও স্পষ্ট। সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির চুক্তি কানাডার মানবাধিকার-ভিত্তিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অনেকেই। এছাড়া রাশিয়া, চীন ও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে দেশটির সঙ্গে ওই রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সবসময়ই কানাডার পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। যদিও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় আছে, সাম্প্রতিক বাণিজ্য নীতি ও পরিবেশ ইস্যুতে অটোয়া ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর কূটনীতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে চাইছে কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতায় কানাডা এখন এক অদ্ভুত দ্বিধাবিভক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে। একদিকে নরম শক্তি ব্যবহার করে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করছে, অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ও অর্থনৈতিক চাপ তাকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডার কূটনৈতিক ভাবমূর্তি এখনও মূলত বন্ধুত্বপূর্ণ। তবে অস্ত্র রপ্তানি, নিষেধাজ্ঞা ও কৌশলগত সম্পর্কের কারণে দেশটির নীতিতে শত্রুতার আবহও তৈরি হচ্ছে। সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শান্তিরক্ষী ভাবমূর্তি ধরে রেখে আন্তর্জাতিক ভারসাম্য রক্ষা করা।
