
টরন্টো সিটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু করেছে নতুন আইন ‘বাবল জোন’। এই আইনের আওতায় শহরের নির্দিষ্ট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ বা কোনও ধরনের প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে গর্ভপাতবিরোধী গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সংগঠন হাসপাতালের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালাচ্ছিল। এর ফলে জরুরি সেবা নিতে আসা রোগী ও চিকিৎসা কর্মীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল। এ ধরনের অবস্থা ঠেকাতেই বাবল জোন আইন কার্যকর করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, হাসপাতাল বা ক্লিনিকের আশপাশে ৫০ থেকে ১৫০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে ‘নিরাপদ জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সীমার মধ্যে কোনও ধরনের স্লোগান, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, বিক্ষোভ বা প্রচারণা চালানো বেআইনি বলে গণ্য হবে। নিয়ম ভাঙলে জরিমানা কিংবা কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
শহরের মেয়র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মানুষ যখন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসে, তখন তাদের একমাত্র চিন্তা হওয়া উচিত স্বাস্থ্যসেবা। কোনও প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক কার্যক্রমের কারণে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে এটা আমরা হতে দেব না।”
তবে এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশ বলছে, এই আইন নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। তাদের মতে, প্রতিবাদ গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার, তাই পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খোঁজা উচিত ছিল।
অন্যদিকে, সাধারণ নাগরিকদের অনেকেই বাবল জোনকে স্বাগত জানিয়েছেন। টরন্টোর একটি প্রধান হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, “আগে হাসপাতালে ঢোকার সময় চিৎকার-চেঁচামেচির মুখে পড়তে হতো, এখন অন্তত শান্তিতে আসতে পারছি।”
শহরের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাবল জোন আইন কার্যকর হওয়ায় চিকিৎসা পরিবেশ অনেক বেশি নিরাপদ হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
