ফার্মাকেয়ার ডিল আসছে: কার্নির ঘোষণা, কানাডায় ওষুধ সেবায় নতুন যুগের সূচনা

কানাডার স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিলেন মার্ক কার্নি

কানাডার স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিলেন মার্ক কার্নি। বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় ফার্মাকেয়ার চুক্তি কার্যকরের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানালেন, অচিরেই সারাদেশে একটি ঐক্যবদ্ধ ওষুধ কর্মসূচি চালু হবে, যা প্রেসক্রিপশন ওষুধকে কানাডিয়ান নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য ও প্রায় বিনামূল্যে করে তুলবে।

বর্তমানে কানাডায় প্রেসক্রিপশন ওষুধের বার্ষিক খরচ প্রায় ৩৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার, যার একটি বড় অংশই জনগণকে ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হয়। গড়ে একজন কানাডিয়ান প্রতি বছর প্রায় ১,০০০ ডলার কেবল ওষুধের জন্য ব্যয় করেন। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে এই খরচ মেটাতে অনেক সময় অন্যান্য মৌলিক চাহিদা থেকে সরে আসতে হয়, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সমতা ও ন্যায্যতায় বড় বাধা সৃষ্টি করে।

- Advertisement -

কার্নি জানান, নতুন ফার্মাকেয়ার প্রোগ্রাম চালু হলে অন্তত ৮০ শতাংশ পরিবার বার্ষিক ওষুধ খরচের ৫০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করবে। সরকারের মতে, এটি দেশের স্বাস্থ্যনীতি ও জনকল্যাণে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থের অভাবে নিয়মিত প্রেসক্রিপশন পূরণ করতে না পারা বর্তমানে প্রায় ২০ শতাংশ কানাডিয়ানের জন্য বাস্তবতা। এর ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুখ বেড়ে যায়, যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি এবং জরুরি চিকিৎসার খরচ বাড়তে থাকে। জাতীয় ফার্মাকেয়ার চালু হলে এই প্রবণতা কমবে, এবং প্রতিরোধযোগ্য জটিলতা হ্রাস পাওয়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচিতে ইনসুলিন, হৃদরোগের সাধারণ ওষুধ, এন্টিবায়োটিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ধাপে ধাপে তালিকায় আরও ওষুধ যুক্ত করে ২০২৮ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ওষুধ তালিকা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে বাল্ক পারচেজিং বা একত্রে ওষুধ কেনার মাধ্যমে বছরে অন্তত ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের আশা করা হচ্ছে। সরবরাহকারীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

ফার্মাকেয়ার পরিকল্পনাকে ঘিরে রাজনীতিতেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, উদ্যোগটি সময়োপযোগী হলেও বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় এখনো স্পষ্টতা নেই। বিশেষ করে প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে সমন্বয়, বেসরকারি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ভূমিকা এবং ছোট ফার্মেসিগুলোর ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিয়ে পরিষ্কার নীতিমালা দরকার।

তবে সাধারণ জনগণের আগ্রহ ও সমর্থন অত্যন্ত ইতিবাচক। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশ কানাডিয়ান জাতীয় ফার্মাকেয়ার ব্যবস্থাকে সমর্থন করছেন। প্রবীণ নাগরিক, দীর্ঘমেয়াদি রোগী এবং কম আয়ের পরিবারগুলো এই প্রোগ্রামকে তাদের জীবনের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে দেখছে।

কার্নি আশ্বাস দিয়েছেন, কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তির বিস্তারিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি প্রকাশ করা হবে। তাঁর মতে, কোনো কানাডিয়ান নাগরিক যেন ওষুধের উচ্চমূল্যের কারণে চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য না হন এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, কানাডা এমন এক সময়ের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে প্রেসক্রিপশন ওষুধকে আর বিলাসিতা নয়, বরং মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। জাতীয় ফার্মাকেয়ার ব্যবস্থা কেবল স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করবে না, বরং সামাজিক সমতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করবে। এটি কানাডার স্বাস্থ্যনীতি ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI

- Advertisement -

Read More

Recent