কানাডার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চান নতুন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত

কানাডা ও ভারতের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে

কানাডায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ পাটনায়েক অটোয়া সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ভারতের সঙ্গে সীমিত পরিসরের বাণিজ্য চুক্তির চিন্তা থেকে সরে এসে বরং একটি সমন্বিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি (Comprehensive Economic Partnership Agreement) বা CEPA-এর দিকে অগ্রসর হয়। তাঁর মতে, কানাডিয়ান ব্যবসায়ী মহলের এখনই ভারতের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত সরকারি চুক্তির জন্য অপেক্ষা না করে।

দীনেশ পাটনায়েক বলেন, “আমরা বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত প্যাকেজের বিষয়েই বেশি আগ্রহী। বাণিজ্য চুক্তির জন্য আমাদের অপেক্ষা করা উচিত নয়। এখনই যা সম্ভব, সেটাই শুরু করা উচিত।”

- Advertisement -

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল বাজার এবং বিপুল জনসংখ্যা কানাডার জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। প্রযুক্তি, শিক্ষা, কৃষি, পরিষেবা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতে কানাডার ব্যবসায়ীদের সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া উচিত।

কানাডা ও ভারতের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। কিন্তু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এই আলোচনা বারবার বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়েছে। শেষবার ২০২৩ সালে এই আলোচনাটি পুরোপুরি স্থগিত হয়ে যায়।

এর মূল কারণ ছিল কানাডার অভিযোগ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারেতে এক কানাডিয়ান শিখ আন্দোলনকর্মীর হত্যাকাণ্ডে ভারতের ‘সম্ভাব্য জড়িত থাকা’। এই অভিযোগ প্রকাশের পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে।

২০২৩ সালে কানাডা ভারতের ছয়জন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারতও কানাডিয়ান কূটনীতিকদের বেশিরভাগের কূটনৈতিক সুরক্ষা প্রত্যাহার করে নেয়। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক একপ্রকার অচলাবস্থায় চলে যায়।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে অটোয়ার নতুন কার্নি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে জোর দিচ্ছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দ চলতি মাসের শুরুতে ভারত সফর করেন।

সফর শেষে দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে একাধিকবার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা প্রসঙ্গটি জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই বিবৃতি গত এক বছরের মধ্যে কানাডার ভারতনীতি নিয়ে বড় ধরনের মনোভাবগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দীনেশ পাটনায়েকের বক্তব্য কেবল অর্থনৈতিক বার্তাই নয়, বরং এটি একধরনের কূটনৈতিক ইঙ্গিতও বহন করে। ভারত চাইছে, কানাডা যেন অতীতের দ্বন্দ্ব পেরিয়ে বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথে এগোয়।

ভারতীয় অর্থনীতির গতি, অভ্যন্তরীণ বাজারের ব্যাপ্তি এবং প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ খাতের দ্রুত প্রসার এসবই এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে কানাডার জন্য এটি একটি সুযোগ, কারণ বৈশ্বিক ভূরাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দুই দেশের মধ্যে নতুন করে এক “পুনরায় উষ্ণ সম্পর্কের সূচনা” ঘটছে। তবে এই সম্পর্কের বাস্তব অগ্রগতি কতটা হবে, তা নির্ভর করবে কানাডা সরকারের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও ভারতের প্রতি তাদের আস্থার মাত্রার ওপর। যদি দুই দেশ সত্যিই পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তির পথে অগ্রসর হতে পারে, তাহলে তা শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, বরং ভারত–কানাডা অর্থনীতির জন্যও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

- Advertisement -

Read More

Recent