
অন্টারিওর ফোর্ড সরকার ভাড়াটিয়াদের তাদের ইউনিটে থেকে যাওয়ার অধিকার বা “সিকিউরিটি অব টেনিউর” সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। ব্যাপক জনসমালোচনা, ভাড়াটিয়া সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ এবং কিছু রাজনৈতিক নেতার কঠোর বিরোধিতার পর অবশেষে সরকার এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।
রবিবার বিকেলে অন্টারিওর মিউনিসিপাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড হাউজিং মন্ত্রী রব ফ্ল্যাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) পোস্ট করে জানান, ফোর্ড সরকার “সিকিউরিটি অব টেনিউর” সংক্রান্ত পরামর্শ আর গ্রহণ করবে না। অর্থাৎ, বর্তমান আইনের অধীনে ভাড়াটিয়াদের যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ভাড়া চুক্তি ও Residential Tenancies Act মেনে চলবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের ভাড়া বাসায় থাকার অধিকার বহাল থাকবে।
ফোর্ড সরকারের “Fighting Delays, Building Faster Act” নামের বিলের মাধ্যমে প্রদেশজুড়ে নীতিমালা ও আইনে ৪০টিরও বেশি পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যেই একটি ছিল সিকিউরিটি অব টেনিউর সংশোধন, যা মাসভিত্তিক ভাড়া ব্যবস্থার নিয়ম পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ল্যান্ডলর্ডরা সহজেই ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করতে পারতেন, ফলে মাসভিত্তিক ভাড়াটিয়াদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতো।
রব ফ্ল্যাক তার সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, “প্রদেশের রেন্টাল আবাসন বাজার শক্তিশালী করতে আমরা অন্যান্য সাধারণ সংস্কারগুলো চালিয়ে যাব। এখনই এই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সময় নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, প্রদেশের লক্ষ্য হলো ল্যান্ডলর্ড ও টেন্যান্ট বোর্ডের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে ভাড়ার বাজারকে স্থিতিশীল করা। এর পাশাপাশি সরকার নতুন ভাড়াভিত্তিক আবাসন নির্মাণে উৎসাহ দেবে, যাতে আরও বেশি পরিবার নিরাপদ আবাসন খুঁজে পেতে পারে।
ভাড়াটিয়া সংগঠন, সামাজিক সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ছিল এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। অনেকেই সতর্ক করেছিলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে অন্টারিওর অর্ধেকেরও বেশি ভাড়াটিয়া বিশেষ করে টরন্টোর মতো শহরে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ সরকারের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এই পরিবর্তন যদি কার্যকর হতো, তবে এটি টরন্টোর প্রায় ৫০ শতাংশ ভাড়াটিয়ার জন্য ভয়াবহ হতো। এটি ছিল বৃহৎ কর্পোরেট ল্যান্ডলর্ডদের বিজয়ের প্রস্তাব, সাধারণ মানুষের নয়।” অলিভিয়া চাউ আরও যোগ করেন, “এই বিজয় ভাড়াটিয়া সংগঠনগুলোর যারা তাদের কণ্ঠস্বর দিয়ে সরকারকে শুনতে বাধ্য করেছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্টারিও সরকারের এই সিদ্ধান্ত তার জনপ্রিয়তা রক্ষা ও রাজনৈতিক ক্ষতি এড়ানোর কৌশল। সাম্প্রতিক সময়ে প্রদেশজুড়ে বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা কমানোর মতো পদক্ষেপ ফোর্ড সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক হতে পারত।
অন্যদিকে, ল্যান্ডলর্ড সংগঠনগুলো এখনও দাবি করছে, বর্তমান ব্যবস্থায় ভাড়াটিয়ারা অতিরিক্ত সুরক্ষা পেয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে অনেক মালিক বাজার থেকে সরে যাচ্ছেন এবং নতুন রেন্টাল ইউনিট তৈরির আগ্রহ কমছে।
ফোর্ড সরকারের পিছু হটা মূলত জনমতের প্রতি এক বাস্তববাদী প্রতিক্রিয়া। যেখানে ভাড়াটিয়া সংকট ও আবাসন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। আপাতত “সিকিউরিটি অব টেনিউর” আইন অপরিবর্তিত থাকছে, তবে আবাসন খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সরকার অন্য দিকগুলোতে সংস্কার চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে নাগরিকদের একজোট প্রতিবাদ ও গণচাপ সরকারের নীতিতে বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে। অন্টারিওর ভাড়াটিয়ারা অন্তত আপাতত নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, তাদের থাকার অধিকার আগের মতোই সুরক্ষিত আছে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
