
কানাডার অর্থনীতিতে মন্থর প্রবৃদ্ধি ও মার্কিন বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। এরই মধ্যে ব্যাংক অব কানাডা সুদের হার কমানোর প্রশ্নে পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে একই সঙ্গে ঐক্যমত্য ও মতভেদ দুটোই বিদ্যমান বলে জানা গেছে।
দুই সপ্তাহ আগে প্রকাশিত সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা দ্বিতীয়বারের মতো মূল নীতিনির্ধারণী সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ২.২৫ শতাংশে নামায়। বুধবার প্রকাশিত সেই বৈঠকের আলোচনার সংক্ষিপ্তসারে উঠে এসেছে, সুদের হার কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিচালনা পর্ষদে কোনও দ্বিধা ছিল না। দুর্বল অর্থনীতি ও মার্কিন শুল্কনীতির প্রভাবে মূল্যস্ফীতি আগামী কয়েক মাস ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার আশপাশে থাকবে এই প্রাক্কলনই মূলত সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্তকে আরও জোরালো করেছে।
তবে সুদের হার কমানোর সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে পর্ষদ সদস্যদের মধ্যে মতানৈক্য ছিল। সংক্ষিপ্তসারে উল্লেখ করা হয়েছে কিছু সদস্যের মতে, অল্প সময় অপেক্ষা করলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন কানাডার অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যেত। এতে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত আরও তথ্যসমৃদ্ধ হতে পারত। তাছাড়া, গত সপ্তাহে ফেডারেল সরকার যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাজেট উপস্থাপন করেছে, তার প্রভাবও অর্থনীতিতে কেমন পড়ছে সেই ছবিটিও একটু সময় নিয়ে বোঝা যেত।
অন্যদিকে, পর্ষদের আরেক অংশের মূল্যায়ন ছিল ভিন্ন। তাদের মতে, শ্রমবাজারের দুর্বলতা এবং চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রবৃদ্ধির শ্লথতার আশঙ্কা সুদের হার আর দেরি না করে এখনই কমানোর পক্ষে দৃঢ় যুক্তি দেয়। বিলম্ব করলে অর্থনৈতিক গতি আরও মন্থর হতে পারত।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দুই দফা হ্রাসের পর গভর্নিং কাউন্সিল মনে করছে যে শুল্কজনিত চাপ মোকাবিলায় ব্যাংক অব কানাডা প্রায় সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপই নিয়েছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যদি তাদের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে থাকে, তবে সম্ভবত আরও সুদের হার কমানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে।
তবে অর্থনীতিবিদদের অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর বাণিজ্যনীতির দিকনির্দেশনা আরও পরিবর্তিত হলে বা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে নতুন করে নীতিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। ফলে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকবে না বাড়বে বা আরও কমবে এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক তথ্যের ওপরই নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে, ব্যাংক অব কানাডার সর্বশেষ আলোচনার সংক্ষিপ্তসার জানিয়ে দিল যে প্রয়োজনীয়তার জায়গায় সুদের হার কমানো নিয়ে বোর্ডের কোনও দ্বিধা নেই, কিন্তু কখন কমানো উচিত সেই প্রশ্নেই প্রধান মতভেদ তৈরি হয়েছে। কানাডার অর্থনীতির পরবর্তী দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই বিতর্ক ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
