
কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) জানিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে ৩৩ হাজারেরও বেশি অপসারণ পরোয়ানা সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে ১০ হাজারের বেশি পরোয়ানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। যদিও সংস্থাটি দাবি করছে, গত এক বছরে অপসারণ কার্যক্রম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সিবিএসএর উপ-সভাপতি অ্যারন ম্যাক্রোরি জানান, গত ১২ মাসে ২২ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সব বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তবুও অপসারণ আদেশের সংখ্যা কমার বদলে বাড়ছেই বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সিবিএসএর ইনভেন্টরিতে ৩২–৩৩ হাজার অপসারণ আদেশ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব আদেশের মধ্যে অনেকগুলোই বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া, নথিপত্র যাচাই কিংবা ভ্রমণ নথি সংগ্রহে বিলম্বের কারণে বাস্তবায়িত হতে পারেনি।
ম্যাক্রোরি বলেন, “কানাডায় প্রতিদিন প্রবেশ করা বিপুল সংখ্যক মানুষের নথি পরীক্ষা ও প্রক্রিয়াকরণ আমাদের দায়িত্ব। এদের মধ্যে বিদেশে থাকা কানাডীয় নাগরিক, আন্তর্জাতিক পর্যটক, অস্থায়ী কর্মী ও আশ্রয়প্রার্থী সবাইই রয়েছেন।” যারা প্রবেশে অযোগ্য, তাদের বড় অংশই আইনগত শর্ত পূরণে ব্যর্থ
সিবিএসএ জানায়, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি প্রোটেকশন অ্যাক্ট (IRPA) অনুযায়ী কানাডায় প্রবেশের শর্ত পূরণ করতে না পারা ব্যক্তিদেরই বেশির ভাগকে সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠানো হয় বা পরবর্তীতে অপসারণ আদেশ দেওয়া হয়।
এদের মধ্যে রয়েছেন ভিসা বা পারমিটের শর্ত ভঙ্গকারী অস্থায়ী অভিবাসী, প্রবেশের যোগ্যতা হারানো ব্যক্তিরা এবং সীমিত সংখ্যায় ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত বিদেশিরা।
ম্যাক্রোরির ভাষায়, “কানাডায় প্রবেশে অযোগ্য মোট মানুষের মাত্র ২.২ শতাংশকে ফৌজদারি অপরাধের কারণে ফেরত পাঠাতে হয়। বাকি সবাই প্রবেশ শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশে ঢুকতে পারেন না।”
সিবিএসএ জানায়, গত বছর কানাডার বিভিন্ন পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে ৭ কোটির বেশি যাত্রী দেশটিতে প্রবেশ করেছে। তাদের মধ্যেই অনেকে নিয়ম লঙ্ঘন বা নথিপত্রের সমস্যার কারণে প্রবেশের যোগ্যতা হারান।
অভিবাসন বিষয়ক কনজারভেটিভ পার্টির সমালোচক মিশেল রেম্পেল-গার্নারের চাহিদা অনুযায়ী সংসদে যে নথি উপস্থাপন করা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে ১০,০০০-এর বেশি অপসারণ আদেশ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। অনেক মামলার নথি প্রক্রিয়াকরণ, আইনি আবেদন এবং ভ্রমণ নথি সংগ্রহে ধীরগতির কারণে এগুলো স্থগিত হয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপসারণ আদেশ দীর্ঘদিন কার্যকর থাকা প্রশাসনিক জটিলতা, আইনি আপিল, উৎসদেশের ভ্রমণ নথি না পাওয়া, এবং সীমান্তে কর্মীসংখ্যার ঘাটতির মতো সমস্যাগুলোর কারণে হয়ে থাকে।
এ ছাড়া আশ্রয়প্রার্থীদের মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সিস্টেমে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে অপসারণ আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্বের মধ্য দিয়ে।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
