
অন্টারিওর লিবারেল এমপি এবং সাবেক পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী কারিনা গোল্ড জানিয়েছেন, তিনি অন্টারিও লিবারেল পার্টির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন না। দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বনি ক্রম্বি দলের শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে কারিনা গোল্ডও নেতৃত্বের দৌড়ে নামার সম্ভাবনা যাচাই করছিলেন।
কারিনা গোল্ড সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানান, বিভিন্ন পর্যায় থেকে তাকে প্রাদেশিক দলের নেতৃত্বের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করেছিলেন। তবে দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, বার্লিংটনের এমপি হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন এবং নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করাই এই মুহূর্তে তার জন্য সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা হতে পারে।
তিনি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা বার্লিংটন বর্তমানে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে ইস্পাত ও গাড়ি শিল্পের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের কারণে এই অঞ্চলের শিল্প ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রাদেশিক রাজনীতিতে নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামার পরিবর্তে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সরাসরি কাজ করাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, কারিনা গোল্ড সম্প্রতি ফেডারেল লিবারেল পার্টির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। ওই প্রতিযোগিতায় প্রথম হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং দ্বিতীয় হন সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। নেতৃত্বের এই দৌড়ে গোল্ডের সক্রিয় উপস্থিতি তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও পরিচিত করে তোলে।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মন্ত্রিসভায় টানা আট বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন কারিনা গোল্ড। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর গঠিত প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি স্থান পাননি। তারপরও তিনি নিজেকে সক্রিয় সংসদ সদস্য হিসেবে ধরে রেখে স্থানীয় ও জাতীয় ইস্যুতে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, অন্টারিও লিবারেল পার্টির নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সে পথ থেকে সরে এসে কারিনা গোল্ড সংসদীয় এলাকার স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা তার রাজনৈতিক কৌশল ও বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
