
গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার (জিটিএ) কন্ডোমিনিয়াম বাজারের জন্য ২০২৫ সাল ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। সরবরাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও প্রত্যাশিত হারে ক্রেতার চাহিদা না বাড়ায় বাজারে স্পষ্ট মন্দাভাব তৈরি হয়েছে। শুধু জিটিএ নয়, কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এমনটাই উঠে এসেছে আবাসন খাতের নতুন এক প্রতিবেদনে।
রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রেম্যাক্স সোমবার প্রকাশ করেছে তাদের ২০২৫ সালের কানাডিয়ান কন্ডোমিনিয়াম রিপোর্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিটিএসহ দেশের বহু এলাকায় কন্ডোর সরবরাহ বাড়ার বিপরীতে ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় কন্ডোমিনিয়ামের গড় দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জিটিএতে কন্ডোমিনিয়ামের গড় দাম নেমে এসেছে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৩০৮ ডলারে। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে যেখানে গড় দাম ছিল ৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৫০ ডলার, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে দাম কমেছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ।
শুধু দাম নয়, বিক্রির সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০২৪ সালে জিটিএতে মোট ২০ হাজার ৫৯০টি কন্ডোমিনিয়াম বিক্রি হলেও ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১৮ হাজার ১৩৯টিতে। অর্থাৎ, এক বছরে কন্ডো বিক্রি কমেছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।
তবে সামগ্রিক মন্দার মধ্যেও জিটিএর কয়েকটি নির্দিষ্ট নেবারহুড এই নেতিবাচক প্রবণতার বিপরীতে অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। রেম্যাক্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রাইডল পাথ–ইয়র্ক মিলস–সানিব্রুক এবং সেন্ট অ্যান্ড্রু–উইন্ডফিল্ডস এলাকায় কন্ডোমিনিয়াম বিক্রি বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
এ ছাড়া ব্যাথার্স্ট ম্যানোর–ক্ল্যান্টন পার্কে বিক্রি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ, ইটোবিকোক ওয়েস্ট মল–আইলিংটন সিটি সেন্টার ওয়েস্ট–কিংসওয়ে সাইথে বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, এবং ডন মিলস–ব্যানবারিতে কন্ডোমিনিয়াম বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব এলাকাগুলোতে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবকাঠামো, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের আগ্রহ থাকায় বাজার কিছুটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
রেম্যাক্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কন্ডোমিনিয়াম বাজারের এই নিস্তেজ অবস্থা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এর পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিইউসেএমএর মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে অনিশ্চয়তা, শুল্কজনিত কারণে সামগ্রিক অর্থনীতির গতি শ্লথ হওয়া, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, আসন্ন মর্টগেজ নবায়নের চাপ এবং কর্মসংস্থানে অস্থিরতা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে না পারলে স্বল্পমেয়াদে কন্ডোমিনিয়াম বাজারে বড় ধরনের পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা কম। ফলে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের অনেকেই আপাতত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছেন।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ২০২৫ সাল জিটিএর কন্ডোমিনিয়াম বাজারের জন্য ছিল সংযম ও অপেক্ষার বছর যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
