
টরন্টো সিটি কাউন্সিল শহরের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলোর বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে গরমের মৌসুমে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাইল (বিধি) অনুমোদন করেছে। এয়ারকন্ডিশনিংয়ের ব্যবস্থা নেই এমন অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলোতে গ্রীষ্মকালে ভাড়াটিয়াদের জন্য অন্তত একটি ঠান্ডা ও স্বস্তিদায়ক স্থান রাখাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এই নতুন বিধিতে।
কাউন্সিলের ভোটে অনুমোদিত এই নতুন ইনডোর টেম্পারেচার স্ট্যান্ডার্ডস বাইল নগরীর বিদ্যমান হিটিং বাইলকে প্রতিস্থাপন করবে। নতুন বিধিটি কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে সব ভাড়ার ইউনিটে আলাদা কুলিং বা এয়ারকন্ডিশনিংয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ভবনের ভেতরে অন্তত একটি এমন স্থান রাখতে হবে, যেখানে ১ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হবে না। এই জায়গাটি ভাড়াটিয়ারা গরমের সময় ব্যবহার করতে পারবেন, যাতে তীব্র তাপদাহে তাঁদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমে।
শুধু ঠান্ডা জায়গা রাখাই নয়, বাইলতে ভবনের আদর্শমান ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নীতিমালাও হালনাগাদ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কুলড অ্যামেনিটি স্পেস কোথায় থাকবে, দিনে কোন সময়গুলোতে সেটি খোলা ও চালু থাকবে এসব তথ্য ভবনের মালিকদের ভাড়াটিয়াদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি, তীব্র গরমের সময় ভবনের ভেতরে বা আশপাশে থাকা অন্যান্য স্বস্তিদায়ক বা কুলিং স্পেসের তথ্যও ভাড়াটিয়াদের জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
একই সঙ্গে টরন্টো সিটি কাউন্সিল নিম্ন আয়ের ও নাজুক পরিবারগুলোর জন্য এয়ারকন্ডিশনার সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখারও অনুমোদন দিয়েছে। এই কর্মসূচিটি ২০২৬ সালের নগর বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে যেসব পরিবার নিজ উদ্যোগে এয়ারকন্ডিশনার স্থাপন করতে অক্ষম, তারা আর্থিক সহায়তা পাবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টরন্টোসহ কানাডার বিভিন্ন শহরে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও সময়কাল বেড়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত গরম মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। নগর কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন এই বাইল গ্রীষ্মকালে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বসবাসকারী হাজারো ভাড়াটিয়ার জন্য নিরাপদ ও মানবিক বাসস্থান নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার আগে ভবন মালিকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হচ্ছে। নগর প্রশাসনের আশা, এই পরিবর্তনের ফলে গরমের মাসগুলোতে শহরের বাসিন্দারা আরও স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।
This article was written by Rezaul Haque as part of the LJI
