
কানাডার সাবেক ফেডারেল ন্যায়বিচার মন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল জোডি উইলসন-রেবোল্ড ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং শিগগিরই চিকিৎসা শুরু করতে যাচ্ছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি নিজেই এ তথ্য জানান।
নিজের পোস্টে উইলসন-রেবোল্ড লেখেন, রোগ নির্ণয়ের খবরটি তাঁর জন্য ভয় ও অনিশ্চয়তার হলেও তিনি অন্যদের সংগ্রামের গল্প থেকে শক্তি ও সাহস খুঁজে পাচ্ছেন। “এটি ভয়ের এবং অনিশ্চিত সময় হলেও, বহু বছর ধরে যাঁরা নিজেদের সুস্থতা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ের গল্প শেয়ার করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হচ্ছি,” বলেন তিনি।
তিনি তাঁর চিকিৎসা দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশেষভাবে নিজের সার্জন, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ক্যান্সার এজেন্সি (বি.সি. ক্যান্সার এজেন্সি) এবং পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ম্যামোগ্রাম এবং ক্যান্সার স্ক্রিনিং করানোর আহ্বান জানান। “একজন আরেকজনকে উৎসাহ দিন, নিজের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করুন এবং প্রয়োজনে দেরি না করে চিকিৎসা নিন,” এমন বার্তাও দেন তিনি।
উল্লেখ্য, জোডি উইলসন-রেবোল্ড ২০১৫ সালে কানাডার ন্যায়বিচার মন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই পদে তিনি ছিলেন দেশের প্রথম আদিবাসী ব্যক্তি এবং তৃতীয় নারী। তাঁর রাজনৈতিক জীবন নতুন মোড় নেয় ২০১৯ সালে, যখন এসএনসি-ল্যাভালিন কেলেঙ্কারিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ তুলে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। একই সময়ে তৎকালীন ট্রেজারি বোর্ড প্রেসিডেন্ট জেন ফিলপটও পদত্যাগ করেন। পরে এসএনসি-ল্যাভালিন একটি দুর্নীতি মামলায় প্রতারণার অভিযোগে দোষ স্বীকার করে।
পদত্যাগের পরও রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাননি উইলসন-রেবোল্ড। ২০১৯ সালের ফেডারেল নির্বাচনে তিনি ভ্যাঙ্কুভার গ্রানভিল আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। তবে ২০২১ সালে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দেন। এরপর তিনি নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিতর্কিত সময়কাল নিয়ে একটি স্মৃতিকথা প্রকাশ করেন, যা কানাডার রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ক্যান্সার রোগ নির্ণয়ের খবর প্রকাশের পর আরেকটি পোস্টে উইলসন-রেবোল্ড জানান, কঠিন সময়েও দায়িত্ব ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দাদা-দাদী এবং বাবা-মায়ের জীবন থেকে তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা চলাকালীন সময়েও তিনি সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকতে চান এবং নেতৃত্ব বিষয়ক একটি নতুন বই লেখার কাজ অব্যাহত রাখবেন।
তাঁর এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সহানুভূতি ও সমর্থনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বহু মানুষ তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ক্যান্সার সচেতনতার গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরার জন্য তাঁর বার্তার প্রশংসা করেছেন।
