
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন উৎসব টেস্ট অব দ্য ড্যানফোর্থ পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগে প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন এই উদ্যোগ সফল করতে হলে সিটি অব টরন্টোকেও সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
টরন্টোর গ্রিকটাউন এলাকায় প্রতি বছর আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এই পথ উৎসবটি দীর্ঘদিন ধরে শহরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল। ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হওয়ার পর থেকে এটি ধীরে ধীরে উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম গ্রিক খাদ্য ও সংস্কৃতি উৎসবে পরিণত হয়। প্রতিবছর লাখো মানুষ ড্যানফোর্থ অ্যাভিনিউতে জড়ো হয়ে গ্রিক খাবার, সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করতেন।
কিন্তু টানা দুই বছর ধরে এই জনপ্রিয় অনুষ্ঠানটি বাতিল থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও উৎসবপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে আয়োজকরা তহবিল সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে গত গ্রীষ্মে অনুষ্ঠানটি না হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এমনকি পরবর্তী বছরেও প্রায় নীরবতার মধ্যেই বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দেয়।
বুধবার প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই উৎসবটির অভাব অনুভব করেন এবং এটি ফিরিয়ে আনতে প্রাদেশিক সরকার আর্থিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এককভাবে প্রদেশ নয় সিটি অব টরন্টোকেও সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। ফোর্ডের জানান, “তিনি টেস্ট অব দ্য ড্যানফোর্থের অভাব অনুভব করেন। তিনি অর্থায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন, কিন্তু সিটিকেও এগিয়ে আসতে হবে। মেয়র, আপনি পার পাচ্ছেন না আপনাকেও কিছু দিতে হবে, আমরা আরও কিছু দেব। এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, প্রাদেশিক ও নগর প্রশাসনের যৌথ অংশীদারিত্ব ছাড়া উৎসব পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
উৎসবটির প্রতি ফোর্ডের আবেগের পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত স্মৃতিও। তিনি উল্লেখ করেন, তার বাবা ড্যানফোর্থ এলাকায় বড় হয়েছেন এবং নিজেকে ‘ইস্ট এন্ডার’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। ফলে এই এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে তার পারিবারিক সংযোগ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, অন্টারিও লাইনের ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফোর্ডের পাশে উপস্থিত ছিলেন টরন্টো-ড্যানফোর্থের এমপি জুলি ডাব্রুসিন। রাজনৈতিকভাবে এই সময়টিতে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টেস্ট অব দ্য ড্যানফোর্থ শুধু একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয় এটি স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রেস্তোরাঁ ও অস্থায়ী বিক্রেতার জন্য এটি ছিল আয় বৃদ্ধির বড় সুযোগ। পর্যটন খাতেও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। দুই বছর বন্ধ থাকার ফলে গ্রিকটাউন এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। ফলে প্রিমিয়ারের প্রতিশ্রুতি স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
এখন প্রশ্ন এই যে প্রদেশ ও সিটি প্রশাসনের মধ্যে অর্থায়ন ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে কত দ্রুত সমঝোতা হয়। যদি উভয় পক্ষ ইতিবাচকভাবে এগিয়ে আসে, তবে আগামী গ্রীষ্মেই হয়তো ড্যানফোর্থ অ্যাভিনিউ আবারও উৎসবের রঙে রাঙা হবে। টরন্টোর বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক এই উৎসবের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর। স্থানীয়রা আশাবাদী দীর্ঘ বিরতির পর আবারও গ্রিকটাউনে প্রাণের স্পন্দন ফিরবে।
Rezaul Haque : Local Journalism Initiative Reporter

