
কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোতে রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ের মাশুল আবারও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শহরের পার্কিং ব্যবস্থাপনা সংস্থা টরন্টো পার্কিং অথরিটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ অন-স্ট্রিট পার্কিংয়ের ভাড়া বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, শহরের প্রায় ২০ হাজার ১৭৯টি অন-স্ট্রিট পার্কিং স্পেসে ঘণ্টাপ্রতি ২৫ সেন্ট করে মাশুল বাড়ানো হতে পারে। সংস্থাটির ধারণা, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শহরের কোষাগারে বছরে প্রায় ২৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব যোগ হবে। টরন্টোর ক্রমবর্ধমান যানবাহন চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং নগর ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে টিপিএ।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় দেখা যাচ্ছে, শহরের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন প্রায় ১ হাজার ৭২১টি পার্কিং স্পেসে মাশুল আরও বেশি বাড়তে পারে। এসব জায়গায় ঘণ্টাপ্রতি পার্কিং ফি ১ দশমিক ২৫ ডলার বাড়িয়ে ২ দশমিক ৭৫ ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে টরন্টোর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পার্কিংয়ের হার ঘণ্টায় দেড় ডলার থেকে ৬ দশমিক ৭৫ ডলার পর্যন্ত। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে তা বেড়ে ঘণ্টায় প্রায় ৩ ডলার থেকে ৭ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে সব জায়গায় সমানভাবে মাশুল বাড়ানো হচ্ছে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ হাজার ৬৮০টি পার্কিং স্পেসে সর্বনিম্ন মাশুল ঘণ্টায় দেড় ডলারই রাখা হবে, যাতে অপেক্ষাকৃত কম ব্যস্ত এলাকার চালকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
টরন্টো সিটি কাউন্সিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে পার্কিং অথরিটিকে পার্কিং হার পর্যালোচনা ও প্রয়োজনে বৃদ্ধি করার নির্দেশনা দেয়। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই টিপিএ একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ করে এই নতুন হার প্রস্তাব করেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পার্কিং ফি নির্ধারণের সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে – স্থানীয় পার্কিংয়ের চাহিদা ও সরবরাহ, মূল্য স্থিতিস্থাপকতা, সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি এবং উত্তর আমেরিকার অন্যান্য বড় শহরের পার্কিং হার। এই সব তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টিপিএ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টরন্টোতে টানা তিন বছর ধরে রাস্তায় পার্কিংয়ের মাশুল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরে গাড়ির সংখ্যা দ্রুত বাড়ার ফলে রাস্তার জায়গা সীমিত হয়ে পড়ছে, আর সেই চাপ সামলাতে পার্কিং ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা গ্রহণ করা হচ্ছে। শহর প্রশাসনের মতে, পার্কিংয়ের দাম সামান্য বাড়ালে একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় গাড়ি ব্যবহার কমে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ তৈরি হতে পারে।
টিপিএর দাবি, প্রস্তাবিত বৃদ্ধি সত্ত্বেও টরন্টোর রাস্তায় পার্কিংয়ের খরচ উত্তর আমেরিকার অনেক বড় শহরের তুলনায় এখনও কম থাকবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে – ভ্যানকুভারে রাস্তায় পার্কিংয়ের মাশুল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১ ডলার পর্যন্ত। নিউ ইয়র্ক সিটি এবং স্যান ফ্রান্সিস্কোতে তা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তুলনামূলকভাবে টরন্টোতে নতুন হার কার্যকর হলেও তা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ৭ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরগুলোতে পার্কিং ফি বৃদ্ধি এখন একটি সাধারণ প্রবণতা। এর মাধ্যমে শহর প্রশাসন একদিকে রাজস্ব বাড়াতে পারে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে ট্রাফিক ও পরিবেশগত চাপ কমানোর চেষ্টা করে। সব মিলিয়ে, প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ টরন্টোর রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ের খরচ আরও কিছুটা বেড়ে যেতে পারে যা শহরের চালকদের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করবে।
Rezaul Haque : Local Journalism Initiative Reporter
