আর্কটিকের নিরাপত্তা ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা কার্নির

আগামী এক দশকে সামরিক বিমান ঘাঁটি ও উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে

কানাডার উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা জোরদারে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নতুন করে নজর দিচ্ছে সরকার। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক দশকে সামরিক বিমান ঘাঁটি ও উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

যদিও পরিকল্পনাটি নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, এর আর্থিক ভিত্তি নতুন নয়। ২০২২ সালেই এই তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা মূলত নর্থ আমেরিকান এয়ার ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ। তবে এতদিন এই অর্থ ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা স্পষ্ট ছিল না। প্রায় চার বছর পর বর্তমান সরকার সেই তহবিল ব্যবহারের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

- Advertisement -

বাংলাদেশি কানাডিয়ান রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ড. শপিকুল আহমেদ বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার কারণে কানাডার এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তরাঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করায় নতুন সামুদ্রিক পথ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে এই অঞ্চল এখন কেবল ভৌগোলিক নয়, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

অতীতের সরকারগুলো এই অঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত বিনিয়োগে পিছিয়ে ছিল।

পরিকল্পনার আওতায় যেসব অঞ্চলে বিনিয়োগ করা হবে, তার মধ্যে রয়েছে – নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজের ইয়েলোনাইফ ও ইনুভিক, নুনাভাটের ইকালুইট এবং নিউফাউন্ডল্যান্ডের হ্যাপি ভ্যালি-গুজ বে (৫ উইং গুজ বে)। এসব স্থানে উন্নত সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যাতে আধুনিক যুদ্ধবিমান বিশেষ করে এফ-৩৫ ও গ্রিপেন ফাইটার সহজে ওঠানামা করতে পারে। এতে কানাডার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

সরকার ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একাধিক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে এবং বেসরকারি খাতকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে পরিকল্পনার বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে দক্ষ কর্মীর অভাব। উত্তরাঞ্চলের প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পরিবেশের কারণে পর্যাপ্ত জনবল পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠী থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও নিশ্চিত হবে।

এই পরিকল্পনাকে শুধু প্রতিরক্ষা উদ্যোগ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একাধারে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংহতি এবং ভূরাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল। উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন হলে বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং সম্পদ আহরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। কানাডার এই উদ্যোগ দেশটির উত্তরাঞ্চলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি বড় পদক্ষেপ। তবে সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কার্যকর ব্যবস্থাপনা, দক্ষ জনবল এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা।

রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Read More

Recent