জুয়া সংক্রান্ত সমস্যায় অন্টারিওর তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সকট চরমে

এবিএ সাপোর্ট সার্ভিসেস এর সিইও তাসমিনা খান বলেন অনলাইন জুয়ার বাজার সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করলেও এর সামাজিক ও মানসিক প্রভাব গভীর হতে পারে

কানাডার অন্টারিও প্রদেশে অনলাইন জুয়ার প্রসারের পর তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার তীব্রতা বেড়েছে এমনই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে একটি নতুন গবেষণায়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নাল-এ, যেখানে দেখা যাচ্ছে জুয়া-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য হেল্পলাইনে যোগাযোগের হার ৩০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষকরা ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এই গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল অন্টারিওর ২৪ ঘণ্টা খোলা, বিনামূল্যের মানসিক স্বাস্থ্য ও আসক্তি সহায়তা সেবা “কানেক্সঅন্টারিও” হেল্পলাইন। ১৩ বছরের এই সময়ে হেল্পলাইনে মোট ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭০০-এর বেশি যোগাযোগ নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার ছিল সরাসরি জুয়া-সংক্রান্ত।

- Advertisement -

গবেষণায় স্পষ্টভাবে দুটি বড় নীতিগত পরিবর্তনের সঙ্গে এই বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে ২০১৫ সালে “প্লেওএলজি” চালু: সরকারিভাবে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ার পর থেকেই হেল্পলাইনে যোগাযোগ বাড়তে শুরু করে। ২০২২ সালে বেসরকারি অনলাইন জুয়ার অনুমতি: এপ্রিল ২০২২ থেকে অনলাইন জুয়ার বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সমস্যাটি আরও তীব্র আকার ধারণ করে। গবেষকদের মতে, এই নীতিগত পরিবর্তনগুলো জুয়ার সহজলভ্যতা বাড়িয়েছে, যা তরুণদের মধ্যে আসক্তি বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।

গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো তরুণদের ওপর এর প্রভাব ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ছেলে ও তরুণ পুরুষদের মধ্যে জুয়া-সংক্রান্ত সমস্যায় হেল্পলাইনে যোগাযোগের হার বেড়েছে গড়ে ৩১৭ শতাংশ। ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি প্রায় ১০৮ শতাংশ। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই নীতিগত পরিবর্তনের আগে এই হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল, যা বর্তমান বৃদ্ধিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

২০২২ সালের পর থেকে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের সংখ্যাও নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে সক্রিয় জুয়াড়ি ছিল প্রায় ২,১৬০ জন। ২০২৪ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,৩০০ জনে। অর্থাৎ, মাত্র দুই বছরের মধ্যে সক্রিয় জুয়াড়ির হার বেড়েছে প্রায় ২৩৯ শতাংশ।

গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রবণতা শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, বরং একটি জনস্বাস্থ্য সংকটের দিকে ইঙ্গিত করছে। তাদের মতে – জুয়ার ক্ষতি কমাতে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন, মানসিক স্বাস্থ্য ও আসক্তি চিকিৎসা সেবার সহজলভ্যতা বাড়ানো জরুরি এবং তরুণদের জন্য সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি জোরদার করা দরকার।

এবিএ সাপোর্ট সার্ভিসেস এর সিইও তাসমিনা খান বলেন, অনলাইন জুয়ার বাজার সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করলেও এর সামাজিক ও মানসিক প্রভাব গভীর হতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই আসক্তির দ্রুত বিস্তার ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে নীতিনির্ধারকদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে জুয়ার অর্থনৈতিক সুবিধা বজায় রেখে এর ক্ষতিকর প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

রেজাউল হক : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Read More

Recent